ফায়দা লুটতে চায় মিয়ানমার

3
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চায় মিয়ানমার। সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার অজুহাত খুঁজছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলম মঙ্গলবার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। মিয়ানমার যাতে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেন। এর আগে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকদের একই বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছিল। এসব ব্রিফিংয়ে চীন ও ভারতের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের কারণে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। যদিও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটছে; কিন্তু সেখান থেকে কিছু কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়ছে। এছাড়া গোলাগুলির শব্দে সীমান্তে বাংলাদেশের অধিবাসীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে চার দফা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। অন্যদিকে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমার দাবি করছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়া মর্টার শেল আরাকান আর্মির। তারা এও বলেছে যে, বাংলাদেশে যেন আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীরা ঠাঁই না পায়। জবাবে বাংলাদেশ বলেছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এদিকে কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দে বাংলাদেশে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে যেসব মর্টার শেল পড়েছে, সেগুলো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসব মর্টার শেল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। পরে এ পরীক্ষার ফল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়। মিয়ানমার বিষয়টি স্বীকার করলেও দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এগুলো আরাকান আর্মি চুরি করে নিয়েছে। তবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আরাকান আর্মি কোনোভাবেই বাংলাদেশের দিকে গোলাবর্ষণ করছে না। কারণ তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আরও জানা গেছে, সোমবার আসিয়ানভুক্ত দেশের প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে ব্রুনাই ছাড়া অপর দেশগুলো বাংলাদেশের অবস্থানকে যৌক্তিক বলে মনে করে। তবে আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিতে পারে না। আর এ কারণেই দেশগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। মঙ্গলবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে প্রাণহানি ঘটছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রথমেই বলেছি, আমাদের ভূখণ্ডে যে গোলা পড়ছে তা বন্ধ করুন। পরবর্তীকালে আমরা আসিয়ান দেশগুলোকেও একইভাবে অনুরোধ করেছি যাতে মিয়ানমারের গোলা বাংলাদেশের ওপর না আসে সে বিষয়ে চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের জনগণের ওপর চাপ না আসে। আজকে যারা এসেছিলেন, অন্যান্য রাষ্ট্রদূত তাদের বলেছি, আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়েছি ৫ বছর হয়ে গেল। তারা একটা রোহিঙ্গাও আজ পর্যন্ত ফেরত নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা এমন কিছু করিনি যে, মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের জনগণ যারা আমাদের দেশের ভেতরে আছে তাদের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে। তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না। তাদের ধান খেতে যেতে পারবে না। তাদের ঘরবাড়িতে থাকতে পারবে না। এটা তো চলতে দেওয়া যায় না। এ কারণেই আমরা তাদের বলেছি, আমরা আপনাদের সাহায্য চাই যাতে মিয়ানমার এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে না পারে। আমরা এটাও বলে দিয়েছি যে, বাংলাদেশ চরম ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার একটা অজুহাত সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সেই রকম কোনো অজুহাত আমরা মিয়ানমারকে দিতে চাইছি না। তিনি আরও বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা আমাদের ধৈর্য ধরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমরা যে কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা তাদের রাজধানীতে এ বিষয়গুলো জানাবেন। ভবিষ্যতে জাতিসংঘে কিছু করণীয় থাকলে তারা আমাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করছে কিনা জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, সেটা আমাদের ধর্তব্যের বিষয় নয়। ইচ্ছা করেই করুক বা যা কিছুই করুক, আমরা মনে করি, এটা এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে ফেলবে। সংঘাতে জড়ানোর জন্যে মিয়ানমারের প্রচেষ্টা থাকলেও আমরা তার অংশ হব না। আমরা বলেছি, আপনারা যে প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে চান সেটা গ্রহণ করুন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সর্বস্তরে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি যাতে মিয়ানমার বুঝতে পারে যে, এমন একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা তাদের জন্য বিপজ্জনক। বাংলাদেশ এটা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসের প্রতি আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তাই অন্য দেশের সন্ত্রাসীকে আমাদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি কোনো দিনই ছিল না। এখনও নেই। ভবিষ্যতেও থাকবে না। মিয়ানমারের ব্যাখ্যা : মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাপরিচালক ইউ যাও ফাইও উইন সোমবার মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম চৌধুরীকে ডেকেছিলেন। এর আগে চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশ। সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা অভিযান চলাকালে কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়ে বলে ঢাকার অভিযোগ জানানো হয়। পাশাপাশি, মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলেও ঢাকার অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমারের মহাপরিচালক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ওই অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছে। মিয়ানমারের মহাপরিচালক জানান যে, আরাকান আর্মি এবং আরসা ১৬ সেপ্টেম্বর বিপি-৩১ এ টাউংপিও (বাম) বর্ডার আউটপোস্টে মর্টারসহ আক্রমণ করে। সেখান থেকে তিনটি মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে পড়ে। আরাকান আর্মি ও আরসা ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর একই অস্ত্র নিয়ে বিপি-৩৪ এ টাউংপিও (ডান) বর্ডার গার্ড পুলিশ আউটপোস্টে আক্রমণ করে। সেখান থেকে নয়টি মর্টার শেল বাংলাদেশের মাটিতে পড়ে। মিয়ানমারের মহাপরিচালক আরও বলেন, আরাকান আর্মি ও আরসা ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান মৈত্রীপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, সীমান্তে অভিযান পরিচালনার সময় মিয়ানমার অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। এক্ষেত্রে, মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে। মহাপরিচালক সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মিয়ানমার পক্ষ বাংলাদেশ পক্ষকে সহযোগিতা করবে। তিনি বাংলাদেশ পক্ষ থেকে পূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মিয়ানমারের মহাপরিচালক বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে আরাকান আর্মি ও আরসার ঘাঁটি রয়েছে বলে অভিযোগ অবহিত করা হয়েছে। এগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ওই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গুলির শব্দে কাঁপছে উখিয়া সীমান্ত : কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানের সীমান্তের পর এবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার পর মর্টার শেলের মতো ভারী অস্ত্রের গোলার শব্দে কেঁপে ওঠে পালংখালী এলাকা। দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী। তিনি বলেন, ঘুমধুম সীমান্তের পর এবার নতুন করে আমার ইউনিয়নের আঞ্জুমান সীমান্তে মায়ানমারের ওপারে ভারী গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নাফ নদী ঘেঁষা সীমান্তের এই অংশে ওপার থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ও সন্ধ্যায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, গণমাধ্যমে বেশ কদিন ধরেই খবর পাচ্ছি সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। মঙ্গলবার সকালে আমাদের আঞ্জুমান সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জুলাই থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সে দেশের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে চলা সংঘাতে অস্থির হয়ে উঠেছে রাখাইন রাজ্য। সংঘাতের প্রভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে, তিন দফায় মায়ানমার থেকে নিক্ষেপিত মর্টার শেল পতিত হয়েছে উখিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের ঘুমধুমে। সর্বশেষ, এক রোহিঙ্গা নিহত ও ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের। গোলাগুলির শব্দে বান্দরবান সীমান্তে আতঙ্ক : বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, তুমব্রু সীমান্তে গোলাবর্ষণের মাত্রাতিরিক্ত শব্দে বান্দরবান সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকেই মর্টার শেল বর্ষণের পরিমাণ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ৩০ মিনিটের ব্যবধানেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তুমব্রু সীমান্তে বিস্ফোরিত হয়েছে কমপক্ষে বিশটি গোলা। মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠে তুমব্রু সীমান্তের বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের মানুষজনও। সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে দাবি সীমান্তবাসীর। তুমব্রু সীমান্ত ঘেঁষে বসবাসকারী বাংলাদেশি সুমিতা রায় বলেন, এখানে থাকতে সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু মনের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক কাজ করছে। মর্টার শেল উড়ে এসে পড়লে স্বামী-সন্তান পরিবারের মানুষের কি হবে। কোনারপাড়ায় মর্টার শেল বিস্ফোরণের পর থেকেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছি না। কিন্তু ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কোনো স্থান নেই। প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বসবাসকারী ৩শ পরিবারের জন্য জায়গা ঠিক করে জানাবে বলেছেন। তারা যেখানে বলবেন ওখানেই চলে যাব নিরাপত্তার স্বার্থে। ঘরবাড়ির চেয়ে স্বামী-সন্তানদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, তুমব্রু এলাকাটি দুভাগে বিভক্ত করায় সীমান্ত ঘেঁষে মানুষের বসতি পড়ে গেছে। সীমান্তের এপারে-ওপারে উভয় ভূ-খণ্ডেই তুমব্রু এলাকা রয়েছে। তুমব্রু সীমান্তের মিয়ানমার অংশে মূলত গোলাগুলি হচ্ছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর। দুপক্ষের সংঘাতে মাঝেমধ্যেই মর্টার শেল এবং ভারী অস্ত্রের গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। স্বাভাবিক মনে হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে গোলাগুলির শব্দ। তুমব্রু সীমান্তের এপার থেকেই ওপারে পাহাড়ে মর্টার শেল বিস্ফোরণের ধোঁয়াও দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত থেকে ৩শ পরিবারকে সরানোর চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন মহল থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলেই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

নিউজ ডেস্ক: আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চায় মিয়ানমার। সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার অজুহাত খুঁজছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলম মঙ্গলবার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। মিয়ানমার যাতে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেন। এর আগে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকদের একই বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছিল। এসব ব্রিফিংয়ে চীন ও ভারতের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের কারণে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। যদিও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটছে; কিন্তু সেখান থেকে কিছু কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়ছে। এছাড়া গোলাগুলির শব্দে সীমান্তে বাংলাদেশের অধিবাসীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে চার দফা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। অন্যদিকে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমার দাবি করছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়া মর্টার শেল আরাকান আর্মির। তারা এও বলেছে যে, বাংলাদেশে যেন আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীরা ঠাঁই না পায়। জবাবে বাংলাদেশ বলেছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এদিকে কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দে বাংলাদেশে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে যেসব মর্টার শেল পড়েছে, সেগুলো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসব মর্টার শেল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। পরে এ পরীক্ষার ফল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়। মিয়ানমার বিষয়টি স্বীকার করলেও দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এগুলো আরাকান আর্মি চুরি করে নিয়েছে। তবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আরাকান আর্মি কোনোভাবেই বাংলাদেশের দিকে গোলাবর্ষণ করছে না। কারণ তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আরও জানা গেছে, সোমবার আসিয়ানভুক্ত দেশের প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে ব্রুনাই ছাড়া অপর দেশগুলো বাংলাদেশের অবস্থানকে যৌক্তিক বলে মনে করে। তবে আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিতে পারে না। আর এ কারণেই দেশগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
মঙ্গলবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে প্রাণহানি ঘটছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রথমেই বলেছি, আমাদের ভূখণ্ডে যে গোলা পড়ছে তা বন্ধ করুন। পরবর্তীকালে আমরা আসিয়ান দেশগুলোকেও একইভাবে অনুরোধ করেছি যাতে মিয়ানমারের গোলা বাংলাদেশের ওপর না আসে সে বিষয়ে চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের জনগণের ওপর চাপ না আসে। আজকে যারা এসেছিলেন, অন্যান্য রাষ্ট্রদূত তাদের বলেছি, আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়েছি ৫ বছর হয়ে গেল। তারা একটা রোহিঙ্গাও আজ পর্যন্ত ফেরত নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা এমন কিছু করিনি যে, মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের জনগণ যারা আমাদের দেশের ভেতরে আছে তাদের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে। তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না। তাদের ধান খেতে যেতে পারবে না। তাদের ঘরবাড়িতে থাকতে পারবে না। এটা তো চলতে দেওয়া যায় না। এ কারণেই আমরা তাদের বলেছি, আমরা আপনাদের সাহায্য চাই যাতে মিয়ানমার এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে না পারে। আমরা এটাও বলে দিয়েছি যে, বাংলাদেশ চরম ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার একটা অজুহাত সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সেই রকম কোনো অজুহাত আমরা মিয়ানমারকে দিতে চাইছি না।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা আমাদের ধৈর্য ধরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমরা যে কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা তাদের রাজধানীতে এ বিষয়গুলো জানাবেন। ভবিষ্যতে জাতিসংঘে কিছু করণীয় থাকলে তারা আমাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করছে কিনা জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, সেটা আমাদের ধর্তব্যের বিষয় নয়। ইচ্ছা করেই করুক বা যা কিছুই করুক, আমরা মনে করি, এটা এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে ফেলবে। সংঘাতে জড়ানোর জন্যে মিয়ানমারের প্রচেষ্টা থাকলেও আমরা তার অংশ হব না। আমরা বলেছি, আপনারা যে প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে চান সেটা গ্রহণ করুন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সর্বস্তরে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি যাতে মিয়ানমার বুঝতে পারে যে, এমন একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা তাদের জন্য বিপজ্জনক। বাংলাদেশ এটা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসের প্রতি আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তাই অন্য দেশের সন্ত্রাসীকে আমাদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি কোনো দিনই ছিল না। এখনও নেই। ভবিষ্যতেও থাকবে না।

মিয়ানমারের ব্যাখ্যা : মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাপরিচালক ইউ যাও ফাইও উইন সোমবার মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম চৌধুরীকে ডেকেছিলেন। এর আগে চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশ। সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা অভিযান চলাকালে কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়ে বলে ঢাকার অভিযোগ জানানো হয়। পাশাপাশি, মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলেও ঢাকার অভিযোগ রয়েছে।

মিয়ানমারের মহাপরিচালক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ওই অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছে। মিয়ানমারের মহাপরিচালক জানান যে, আরাকান আর্মি এবং আরসা ১৬ সেপ্টেম্বর বিপি-৩১ এ টাউংপিও (বাম) বর্ডার আউটপোস্টে মর্টারসহ আক্রমণ করে। সেখান থেকে তিনটি মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে পড়ে। আরাকান আর্মি ও আরসা ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর একই অস্ত্র নিয়ে বিপি-৩৪ এ টাউংপিও (ডান) বর্ডার গার্ড পুলিশ আউটপোস্টে আক্রমণ করে। সেখান থেকে নয়টি মর্টার শেল বাংলাদেশের মাটিতে পড়ে। মিয়ানমারের মহাপরিচালক আরও বলেন, আরাকান আর্মি ও আরসা ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান মৈত্রীপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, সীমান্তে অভিযান পরিচালনার সময় মিয়ানমার অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। এক্ষেত্রে, মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে। মহাপরিচালক সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মিয়ানমার পক্ষ বাংলাদেশ পক্ষকে সহযোগিতা করবে। তিনি বাংলাদেশ পক্ষ থেকে পূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মিয়ানমারের মহাপরিচালক বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে আরাকান আর্মি ও আরসার ঘাঁটি রয়েছে বলে অভিযোগ অবহিত করা হয়েছে। এগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ওই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

গুলির শব্দে কাঁপছে উখিয়া সীমান্ত : কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানের সীমান্তের পর এবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার পর মর্টার শেলের মতো ভারী অস্ত্রের গোলার শব্দে কেঁপে ওঠে পালংখালী এলাকা। দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী। তিনি বলেন, ঘুমধুম সীমান্তের পর এবার নতুন করে আমার ইউনিয়নের আঞ্জুমান সীমান্তে মায়ানমারের ওপারে ভারী গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নাফ নদী ঘেঁষা সীমান্তের এই অংশে ওপার থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ও সন্ধ্যায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, গণমাধ্যমে বেশ কদিন ধরেই খবর পাচ্ছি সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। মঙ্গলবার সকালে আমাদের আঞ্জুমান সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জুলাই থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সে দেশের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে চলা সংঘাতে অস্থির হয়ে উঠেছে রাখাইন রাজ্য।

সংঘাতের প্রভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে, তিন দফায় মায়ানমার থেকে নিক্ষেপিত মর্টার শেল পতিত হয়েছে উখিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের ঘুমধুমে।
সর্বশেষ, এক রোহিঙ্গা নিহত ও ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

গোলাগুলির শব্দে বান্দরবান সীমান্তে আতঙ্ক : বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, তুমব্রু সীমান্তে গোলাবর্ষণের মাত্রাতিরিক্ত শব্দে বান্দরবান সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকেই মর্টার শেল বর্ষণের পরিমাণ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ৩০ মিনিটের ব্যবধানেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তুমব্রু সীমান্তে বিস্ফোরিত হয়েছে কমপক্ষে বিশটি গোলা। মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠে তুমব্রু সীমান্তের বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের মানুষজনও। সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে দাবি সীমান্তবাসীর।

তুমব্রু সীমান্ত ঘেঁষে বসবাসকারী বাংলাদেশি সুমিতা রায় বলেন, এখানে থাকতে সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু মনের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক কাজ করছে। মর্টার শেল উড়ে এসে পড়লে স্বামী-সন্তান পরিবারের মানুষের কি হবে। কোনারপাড়ায় মর্টার শেল বিস্ফোরণের পর থেকেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছি না। কিন্তু ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কোনো স্থান নেই। প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বসবাসকারী ৩শ পরিবারের জন্য জায়গা ঠিক করে জানাবে বলেছেন। তারা যেখানে বলবেন ওখানেই চলে যাব নিরাপত্তার স্বার্থে। ঘরবাড়ির চেয়ে স্বামী-সন্তানদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, তুমব্রু এলাকাটি দুভাগে বিভক্ত করায় সীমান্ত ঘেঁষে মানুষের বসতি পড়ে গেছে। সীমান্তের এপারে-ওপারে উভয় ভূ-খণ্ডেই তুমব্রু এলাকা রয়েছে। তুমব্রু সীমান্তের মিয়ানমার অংশে মূলত গোলাগুলি হচ্ছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর। দুপক্ষের সংঘাতে মাঝেমধ্যেই মর্টার শেল এবং ভারী অস্ত্রের গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। স্বাভাবিক মনে হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে গোলাগুলির শব্দ। তুমব্রু সীমান্তের এপার থেকেই ওপারে পাহাড়ে মর্টার শেল বিস্ফোরণের ধোঁয়াও দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত থেকে ৩শ পরিবারকে সরানোর চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন মহল থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলেই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর