ইসলামি সংগীতে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন হোসাইন আদনান

3
২০০৮ সালে খুলনার ডুমুরিয়ায় দিনব্যাপী ইসলামি সংগীতসহ মোট পাঁচ বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সব বিষয়ে প্রথম হন ৯ বছর বয়সি হোসাইন আদনান। প্রতিযোগিতার ফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি সংগীত জগতের প্রবাদপুরুষ জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন কলরবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ। তিনি পুরস্কার বিতরণের আগে হোসাইন আদনানকে একটি ইসলামি সংগীত শোনাতে বলেন। আদনান সংগীত শোনালে মরহুম আজাদ অত্যন্ত মুগ্ধ হন তার সংগীতে। ভূয়সী প্রশংসাও করেন। অনুষ্ঠান শেষে হোসাইন আদনানের কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করে ছেলেকে ইসলামি সংগীত শেখাতে চাইলেন। কিন্তু ছেলে এখনো ছোট এবং কুরআন হিফজ করছে– এ কথা বলে বাবা অপারগতা প্রকাশ করেন। মরহুম আজাদ তাকে ছেড়ে দেননি। হিফজ শেষ করা পর্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং বিভিন্ন সময় কলরবের সদস্যদেরও খোঁজখবর নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। মরহুম আইনুদ্দীন আল আজাদের স্মৃতিচারণ করে হোসাইন আদনান বলেন, কলরব শিল্পীগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আগে আজাদ ভাই একদিন প্রোগ্রাম করতে খুলনা গেলেন। যথারীতি আমার খোঁজখবর নিতে আমাদের বাসায় এলেন। তখন বাসার কাছেই খেলার মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে আমি ক্রিকেট খেলছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করে দেখি– সাদা জুব্বা-পাগড়ি পরা আজাদ ভাই মাঠের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমি খেলায় এতক্ষণ ফিল্ডিং করছিলাম। এখন ব্যাটিংয়ের পালা। ভাবলাম, আগে ব্যাটিং করব এর পরে আজাদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করব। তা-ই করেছিলাম। আজাদ ভাই আমার খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেন। হোসাইন বলেন, এখন আজাদ ভাইয়ের ওভাবে দীর্ঘক্ষণ ছোট একটি ছেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা আমাকে অবাক করে। এটি নিশ্চয়ই তার বড় মনের পরিচয়। এ বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। হিফজ শেষ হলে ২০০৯ সালে কলরবে যোগ দেন হোসাইন আদনান। এর পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ইসলামি সংগীত গেয়ে কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতার মন জয় করেছেন। শুধু তা-ই নয়, জাফর আহমদ রাবির লেখা এবং বদরুজ্জামানের সুর করা ‘মা’ নিয়ে হোসাইন আদনানের গাওয়া ‘সারা রাত দু’চোখে ঘুম ছিল না, কোথায় আছো, কেমন আছো– মা,’ নাশিদ ৮০ মিলিয়ন দর্শক-শ্রোতা দেখেছেন। এ ছাড়া নাশিদটি বাংলাভাষী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। হোসাইন আদনান বর্তমানে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর সিনিয়র শিল্পীদের একজন। পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন ইসলামি সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘তারানা রেকর্ড’। হোসাইন আদনানের জন্ম ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল। পড়াশোনার হাতেখড়ি মাদ্রাসাতেই। হিফজ শেষ করে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) শেষ করেন। বর্তমানে ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ফাজিল তৃতীয় বর্ষে এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্ট্যাডিজ নিয়ে অনার্স করছেন। হোসাইন আদনানের বাবা ২০১২ সালে ইন্তেকাল করেন। পরিবারে বড় এক ভাই, চার বোন ও মা রয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বর্তমানে কলরব শিল্পীগোষ্ঠী এবং তারানা রেকর্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হোসাইন আদনান শৈশবে স্বপ্ন দেখতেন– তিনি বড় হয়ে শিক্ষক হবেন। এর কিছু দিন পর স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন–তিনি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে মানুষকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলায় সচেষ্ট আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালে খুলনার ডুমুরিয়ায় দিনব্যাপী ইসলামি সংগীতসহ মোট পাঁচ বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সব বিষয়ে প্রথম হন ৯ বছর বয়সি হোসাইন আদনান।

প্রতিযোগিতার ফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি সংগীত জগতের প্রবাদপুরুষ জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন কলরবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ। তিনি পুরস্কার বিতরণের আগে হোসাইন আদনানকে একটি ইসলামি সংগীত শোনাতে বলেন। আদনান সংগীত শোনালে মরহুম আজাদ অত্যন্ত মুগ্ধ হন তার সংগীতে। ভূয়সী প্রশংসাও করেন।

অনুষ্ঠান শেষে হোসাইন আদনানের কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করে ছেলেকে ইসলামি সংগীত শেখাতে চাইলেন। কিন্তু ছেলে এখনো ছোট এবং কুরআন হিফজ করছে– এ কথা বলে বাবা অপারগতা প্রকাশ করেন। মরহুম আজাদ তাকে ছেড়ে দেননি। হিফজ শেষ করা পর্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং বিভিন্ন সময় কলরবের সদস্যদেরও খোঁজখবর নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন।

মরহুম আইনুদ্দীন আল আজাদের স্মৃতিচারণ করে হোসাইন আদনান বলেন, কলরব শিল্পীগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আগে আজাদ ভাই একদিন প্রোগ্রাম করতে খুলনা গেলেন। যথারীতি আমার খোঁজখবর নিতে আমাদের বাসায় এলেন। তখন বাসার কাছেই খেলার মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে আমি ক্রিকেট খেলছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করে দেখি– সাদা জুব্বা-পাগড়ি পরা আজাদ ভাই মাঠের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমি খেলায় এতক্ষণ ফিল্ডিং করছিলাম। এখন ব্যাটিংয়ের পালা। ভাবলাম, আগে ব্যাটিং করব এর পরে আজাদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করব। তা-ই করেছিলাম। আজাদ ভাই আমার খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেন।

হোসাইন বলেন, এখন আজাদ ভাইয়ের ওভাবে দীর্ঘক্ষণ ছোট একটি ছেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা আমাকে অবাক করে। এটি নিশ্চয়ই তার বড় মনের পরিচয়। এ বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।

হিফজ শেষ হলে ২০০৯ সালে কলরবে যোগ দেন হোসাইন আদনান। এর পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ইসলামি সংগীত গেয়ে কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতার মন জয় করেছেন।

শুধু তা-ই নয়, জাফর আহমদ রাবির লেখা এবং বদরুজ্জামানের সুর করা ‘মা’ নিয়ে হোসাইন আদনানের গাওয়া ‘সারা রাত দু’চোখে ঘুম ছিল না, কোথায় আছো, কেমন আছো– মা,’ নাশিদ ৮০ মিলিয়ন দর্শক-শ্রোতা দেখেছেন। এ ছাড়া নাশিদটি বাংলাভাষী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

হোসাইন আদনান বর্তমানে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর সিনিয়র শিল্পীদের একজন। পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন ইসলামি সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘তারানা রেকর্ড’।

হোসাইন আদনানের জন্ম ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল। পড়াশোনার হাতেখড়ি মাদ্রাসাতেই। হিফজ শেষ করে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) শেষ করেন। বর্তমানে ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ফাজিল তৃতীয় বর্ষে এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্ট্যাডিজ নিয়ে অনার্স করছেন।

হোসাইন আদনানের বাবা ২০১২ সালে ইন্তেকাল করেন। পরিবারে বড় এক ভাই, চার বোন ও মা রয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বর্তমানে কলরব শিল্পীগোষ্ঠী এবং  তারানা রেকর্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

হোসাইন আদনান শৈশবে স্বপ্ন দেখতেন– তিনি বড় হয়ে শিক্ষক হবেন। এর কিছু দিন পর স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন–তিনি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে মানুষকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলায় সচেষ্ট আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: যুগান্তর