ব্রিটিশ রানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা শেখ হাসিনার

6
লন্ডনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে বোন শেখ রেহানা এবং লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক ওয়েস্টমিনস্টার হলে যান শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি রানির মৃত্যুতে খোলা শোক বইতে সই করেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি তার প্রয়াত মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ওয়েস্টমিনস্টারে পৌঁছালে ব্রিটিশ স্পিকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোনকে স্বাগত জানান। পরে তাদের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে শোক বই খোলা হয়েছে। সেখানে বাংলায় শোকবার্তা লেখেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণ, আমার পরিবার এবং আমার ছোট বোন শেখ রেহানার পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ এরপর প্রধানমন্ত্রীকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তিনি টেলিভিশনের সামনে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিকি ফোর্ড তাকে স্বাগত জানান। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে, তিনি প্রয়াত রানীর সঙ্গে আট বা নয় বার দেখা করেছিলেন এবং রানী তাকে তার স্বনামেই চিনতেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, তিনি আমার কাছে একজন মাতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন, আমি আমার মায়ের মতো একজনকে হারিয়েছি। মনে হচ্ছে, একজন অভিভাবক চলে গেলেন। সাইদা মুনা তাসনিম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্টমিনস্টার হলে শবাধারে সংরক্ষিত প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি তার শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি বলেন, শোক বইয়ে শেখ রেহানা, যিনি নিজেও একজন ব্রিটিশ নাগরিক, লিখেছেন ‘তিনি আমাদের হৃদয়ের রানি এবং সবসময় থাকবেন।’ এদিকে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে বলেন, বাংলাদেশে, তার সরকার প্রয়াত রানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে এবং তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। রাজা চার্লসের (তৎকালীন প্রিন্স চার্লস) ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী রাজাকে বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী মাসে রাজা চার্লস এবং কুইন কনসোর্টকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। জবাবে রাজা চার্লস বলেন, কুইন কনসোর্ট এবং আমি ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ সফরের জন্য অনেক অপেক্ষায় ছিলাম, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এটি বাতিল করতে হচ্ছে। রাজা বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশি ব্রিটিশ অভিবাসীদের শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগদান শেষে আজ রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট রাত ৯টায় স্ট্যানস্টেড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। নিউইর্য়কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এরআগে সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম প্যালেসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও রাজাদের সম্মানে রাজা তৃতীয় চার্লস অয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে বোন শেখ রেহানা এবং লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক ওয়েস্টমিনস্টার হলে যান শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি রানির মৃত্যুতে খোলা শোক বইতে সই করেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি তার প্রয়াত মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ওয়েস্টমিনস্টারে পৌঁছালে ব্রিটিশ স্পিকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোনকে স্বাগত জানান। পরে তাদের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে শোক বই খোলা হয়েছে। সেখানে বাংলায় শোকবার্তা লেখেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণ, আমার পরিবার এবং আমার ছোট বোন শেখ রেহানার পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ এরপর প্রধানমন্ত্রীকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তিনি টেলিভিশনের সামনে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিকি ফোর্ড তাকে স্বাগত জানান। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে, তিনি প্রয়াত রানীর সঙ্গে আট বা নয় বার দেখা করেছিলেন এবং রানী তাকে তার স্বনামেই চিনতেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, তিনি আমার কাছে একজন মাতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন, আমি আমার মায়ের মতো একজনকে হারিয়েছি। মনে হচ্ছে, একজন অভিভাবক চলে গেলেন।
সাইদা মুনা তাসনিম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্টমিনস্টার হলে শবাধারে সংরক্ষিত প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি তার শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি বলেন, শোক বইয়ে শেখ রেহানা, যিনি নিজেও একজন ব্রিটিশ নাগরিক, লিখেছেন ‘তিনি আমাদের হৃদয়ের রানি এবং সবসময় থাকবেন।’
এদিকে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে বলেন, বাংলাদেশে, তার সরকার প্রয়াত রানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে এবং তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।
রাজা চার্লসের (তৎকালীন প্রিন্স চার্লস) ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী রাজাকে বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী মাসে রাজা চার্লস এবং কুইন কনসোর্টকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
জবাবে রাজা চার্লস বলেন, কুইন কনসোর্ট এবং আমি ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ সফরের জন্য অনেক অপেক্ষায় ছিলাম, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এটি বাতিল করতে হচ্ছে। রাজা বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশি ব্রিটিশ অভিবাসীদের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগদান শেষে আজ রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট রাত ৯টায় স্ট্যানস্টেড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। নিউইর্য়কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এরআগে সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম প্যালেসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও রাজাদের সম্মানে রাজা তৃতীয় চার্লস অয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সূত্র: যুগান্তর