রাবির মাদার বখশ হলের পুনর্মিলনী

9

যেথায় থাকি যে যেখানে,জড়িয়ে আছি প্রাণে প্রাণে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সারাদিন ব্যাপি ছিল মাদার বখশ হলের পুনর্মিলনী উৎসব। এতে মাদার বখশ হলের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকাল ৯ টায় পোলো শার্ট বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ এবং বিভন্ন লোকেশনে ছবি তোলা হয়। র‌্যালিতে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের পশ্চিমপাড়া, ইবলিশ চত্বর, প্যারিস রোড,টুকিটাকি চত্বর,জোহা চত্বর,সাবাশ বাংলাদেশ চত্বর,শহীদ মিনার,মুক্ত মঞ্চ,স্টেডিয়াম ঘুরে মাদার বখ্শ হলের সামনে সমবেত হই। র‌্যালি শেষে সবাই হলগেটে হৈ হুল্লড়ে মেতে ওঠে। অনেক ভাইরা ভাবি-বাচ্চাসহ উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে পূর্ণতা দিয়েছে। তারা যে যার কক্ষে গিয়ে ছবি তোলে ও স্মৃতি রোমন্থন করেন। যেখানে কেটেছে আমাদের ছাত্র জীবনের সোনালী অতিত। সবাই মাদারবখস হলের আবাসিক জীবনের কথা মনে করে অতীত স্মৃতি চারণ করে আর ভাবে আবার যদি ঐ হল জীবনে ফিরে যেতে পারতাম। ফেলে আসা অতীত দিনগুলোর কথা মনে করে অনেকেই আবেগ-আপ্লুত হয়ে।

এরপর খেলাধূলার আয়োজন করা হয়। ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর নিয়ে সবাই পুকুরে গোসল করি ও দুষ্টুমিতে মাতি।অতঃপর হল মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করা হয় । জুম্মার নামাজ অন্তে সবাইমিলে মধ্যাহ্নভোজ করি। এরপর বিকালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র এর আয়োজন করা হয়।

মাদারবখস হলের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টোকন ভাই এর আহ্বানে ও সিনিয়ার সহকারী জজ শুভ দাদার সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এছাড়া রনি ভাই, কাজী ভাই, খাইরুল ভাই,বাবু ভাই, মোশারফ, আশরাফ, মানিক, জিয়া, ইমন, আকরাম, তুহিন,গোলাপ, শাহিন, ডিল্স, মনির, আসাদ সহ অনেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনুষ্ঠানকে সাফল্য মন্ডিত করেন।ছাত্রজীবনে আমরা মাদার বখ্শ হলের আবসিক ছাত্র ছিলাম; আজ যে যার অবস্থানে আসীন হয়েছে।

বিচারক,আইনজীবী,পুলিশ,রাজনীতিক,ব্যাংকার,ব্যবসায়ী,শিক্ষকসহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত হয়েছি।জীবনে চলার পথে সবাই যেন সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়াই।এক মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারি।অনুষ্ঠানের শেষে র‌্যাফেল ড্র ও আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং প্রতি ২ বা ৩ বছর পর পর এরকম পুনর্মিলনীর আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে সবাই।