ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর রূপালী ব্যাংকও

1
ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। জনতা ব্যাংকের পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রূপালী ব্যাংকও। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির চারজন ঋণখেলাপিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে জনতা ব্যাংকের পাঁচজন ঋণখেলাপি গ্রেফতার হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপি নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে ব্যাংকগুলো। তাদের মতে, ঋণখেলাপিদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, তাদের ছাড় দিলে ভালো গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। জানা যায়, রূপালী ব্যাংকের টিসিবি ভবন করপোরেট শাখার দীর্ঘদিনের খেলাপি গ্রাহক এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদা জামানসহ চারজনকে সম্প্রতি গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এনডি গ্রুপের কাছে ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ি ছিল। ব্যাংকের শাখা থেকে ঋণ আদায়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়। অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪(১) ধারা মোতাবেক ৬ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশ প্রদান করা হয়। এরপর দায়ীকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারায় অর্থজারি মামলা (৩০৬/২০২১)-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট তুরাগ থানা পুলিশ এনডি গ্রুপের ঋণের জামিনদার আলমগীর হোসেন, মাহবুব আলম ও এইচএম শহীদুল আলমকে (মানিক) গ্রেফতার করে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর অপর আসামি মাহমুদা জামানকে তার নিজ বাসা ক্যান্টনম্যান্ট আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালত এনডি গ্রুপের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন আরও কয়েকজন খেলাপি। গ্রেফতার এড়াতে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আছেন আত্মগোপনেও। জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অঙ্ক কমিয়ে আনা হবে এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নীতি অব্যাহত থাকবে। ঋণের নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদা জামান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহাদুজ্জামান মূলত গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। মেয়াদি ঋণ, সিসি (হা), এলটিআর, ফোর্সড লোন ও কার লোন বাবদ বিভিন্ন ঋণের বর্তমান স্থিতি প্রায় ৫০ কোটি টাকা। গ্রুপটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এনডি প্রিন্টিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি লিমিটেড, এনডি অ্যাপারেলস লিমিটেড, এনডি নিট কম্পোজিট লিমিটেড, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহাদুজ্জামানের নামে (কার লোন) এবং পরিচালক মাছুমুজ্জামানের নামে (কার লোন) রূপালী ব্যাংকে মোট ১০টি ঋণ হিসাব খোলা আছে। বিপুল অঙ্কের টাকা এসব হিসাবের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। বারবার ঋণ পুনঃতফশিল করেও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। ঋণের দুই দফা পুনঃতফশিল করা হয়। প্রথম পুনঃতফশিল করা হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর আবার ঋণ পুনঃতফশিল করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ ঋণগুলো খেলাপি হয়ে যায়। খেলাপির সময় ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বর্তমানে গ্রুপটির নামে খেলাপি ঋণ স্থিতি ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ঋণের নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ একটি মেয়াদি ঋণের স্থিতি ছিল ৭ কোটি ৬২ লাখ, একই সময়ে দ্বিতীয় মেয়াদি ঋণের স্থিতি ২৯ কোটি ৪৭ লাখ, ফোর্সড লোন স্থিতি ৩ কোটি ৫৪ লাখ, ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি সিসি (হা) ঋণ স্থিতি ১ কোটি ৮৬ লাখ, একই সময়ে এলটিআর ঋণ স্থিতি ২ কোটি ৩৪ লাখ এবং ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাড়ি ঋণ (কার লোন) স্থিতি ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক সূত্র জানায়, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও যেসব গ্রাহক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণের টাকা দীর্ঘদিন পরিশোধ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

নিউজ ডেস্ক: ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। জনতা ব্যাংকের পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রূপালী ব্যাংকও। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির চারজন ঋণখেলাপিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে জনতা ব্যাংকের পাঁচজন ঋণখেলাপি গ্রেফতার হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপি নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে ব্যাংকগুলো। তাদের মতে, ঋণখেলাপিদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, তাদের ছাড় দিলে ভালো গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

জানা যায়, রূপালী ব্যাংকের টিসিবি ভবন করপোরেট শাখার দীর্ঘদিনের খেলাপি গ্রাহক এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদা জামানসহ চারজনকে সম্প্রতি গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এনডি গ্রুপের কাছে ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ি ছিল। ব্যাংকের শাখা থেকে ঋণ আদায়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়। অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪(১) ধারা মোতাবেক ৬ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশ প্রদান করা হয়। এরপর দায়ীকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারায় অর্থজারি মামলা (৩০৬/২০২১)-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট তুরাগ থানা পুলিশ এনডি গ্রুপের ঋণের জামিনদার আলমগীর হোসেন, মাহবুব আলম ও এইচএম শহীদুল আলমকে (মানিক) গ্রেফতার করে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর অপর আসামি মাহমুদা জামানকে তার নিজ বাসা ক্যান্টনম্যান্ট আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালত এনডি গ্রুপের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন আরও কয়েকজন খেলাপি। গ্রেফতার এড়াতে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আছেন আত্মগোপনেও।

জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অঙ্ক কমিয়ে আনা হবে এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নীতি অব্যাহত থাকবে।

ঋণের নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, এনডি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদা জামান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহাদুজ্জামান মূলত গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। মেয়াদি ঋণ, সিসি (হা), এলটিআর, ফোর্সড লোন ও কার লোন বাবদ বিভিন্ন ঋণের বর্তমান স্থিতি প্রায় ৫০ কোটি টাকা। গ্রুপটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এনডি প্রিন্টিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি লিমিটেড, এনডি অ্যাপারেলস লিমিটেড, এনডি নিট কম্পোজিট লিমিটেড, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহাদুজ্জামানের নামে (কার লোন) এবং পরিচালক মাছুমুজ্জামানের নামে (কার লোন) রূপালী ব্যাংকে মোট ১০টি ঋণ হিসাব খোলা আছে। বিপুল অঙ্কের টাকা এসব হিসাবের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। বারবার ঋণ পুনঃতফশিল করেও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। ঋণের দুই দফা পুনঃতফশিল করা হয়। প্রথম পুনঃতফশিল করা হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর আবার ঋণ পুনঃতফশিল করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ ঋণগুলো খেলাপি হয়ে যায়। খেলাপির সময় ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বর্তমানে গ্রুপটির নামে খেলাপি ঋণ স্থিতি ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ঋণের নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ একটি মেয়াদি ঋণের স্থিতি ছিল ৭ কোটি ৬২ লাখ, একই সময়ে দ্বিতীয় মেয়াদি ঋণের স্থিতি ২৯ কোটি ৪৭ লাখ, ফোর্সড লোন স্থিতি ৩ কোটি ৫৪ লাখ, ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি সিসি (হা) ঋণ স্থিতি ১ কোটি ৮৬ লাখ, একই সময়ে এলটিআর ঋণ স্থিতি ২ কোটি ৩৪ লাখ এবং ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাড়ি ঋণ (কার লোন) স্থিতি ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

রূপালী ব্যাংক সূত্র জানায়, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও যেসব গ্রাহক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণের টাকা দীর্ঘদিন পরিশোধ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর