তুরস্কে মুদ্রাস্ফীতি ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

7
তুরস্কে গত বছরের তুলনায় মুদ্রাস্ফীতি ৮০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ। তুরস্কের পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় এ নিয়ে টানা ১৫ মাস দেশটির মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। এর জন্য গত বছর তুর্কি সুদের হার হ্রাসের পর লিরা মান কমে যাওয়া আংশিকভাবে দায়ি বলে মনে করা হচ্ছে। এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোক্তা ও ব্যবসাবাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের ধাক্কা বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশেই দেখা দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রেও দেশটির ক্রেতাদের এখন আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। গত এপ্রিলেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম যা ছিল, মে মাসে তা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্য ও জ্বালানির দাম। ১৯৮১ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের এত চড়া মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের মাসে গড়ে ৪৬০ ডলার খরচ হয়। চলতি মাসে এ খরচের হার কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মুডি’স অ্যানালিটিকসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ। গত বছরের তুলনায় জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের দাম গত ১২ মাসে বেড়েছে ১২ শতাংশ। ২০০৬ সালের পর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে, নিত্যকার জীবনযাপনে যে পণ্য লাগে তার সবগুলোরই দাম বেড়েছে। দেশটির একটি পরিবারের খাবারের জন্য মাথাপিছু ব্যয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ডিমের দাম বেড়েছে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, দুধ ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্য শেল্টার ইনডেক্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খরচ বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ। সাধারণ নাগরিকদের এখন আবাসনের পেছনেই উপার্জনের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন ব্যবসা বড় রকমের ধাক্কা খায়। করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় এভিয়েশন কোম্পানিগুলো আশা করেছিল গত দুই বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেই আশা আর পূরণ হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) তাদের মূল সুদের হার ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ইউরো জোনের দেশগুলোতে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে এবার ১১ বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বাড়িয়েছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। ইউরো জোনে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং কোভিড মহামারির কারণে জ্বালানি, খাবারের দাম বেড়ে গেছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। কারণ ইইউ দেশগুলো প্রচণ্ডভাবে রাশিয়ার তেল এবং গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির প্রেক্ষাপটে মস্কো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলে দেশগুলো উদ্বিগ্ন। বিশ্ববাজারে এ মুহূর্তে সারের দাম আকাশছোঁয়া। এর জেরে দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে মস্কোর উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে বাইডেন প্রশাসন সারসহ রাশিয়ার অন্য কোনো কৃষিপণ্যের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবু অনেক পশ্চিমা ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল নিয়মনীতির মধ্যে ঝামেলায় পড়ার ভয়ে রুশ কৃষিপণ্যের সরবরাহ এড়িয়ে যাচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক: তুরস্কে গত বছরের তুলনায় মুদ্রাস্ফীতি ৮০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ। তুরস্কের পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় এ নিয়ে টানা ১৫ মাস দেশটির মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। এর জন্য গত বছর তুর্কি সুদের হার হ্রাসের পর লিরা মান কমে যাওয়া আংশিকভাবে দায়ি বলে মনে করা হচ্ছে।

এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোক্তা ও ব্যবসাবাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের ধাক্কা বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশেই দেখা দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রেও দেশটির ক্রেতাদের এখন আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। গত এপ্রিলেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম যা ছিল, মে মাসে তা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্য ও জ্বালানির দাম।

১৯৮১ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের এত চড়া মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের মাসে গড়ে ৪৬০ ডলার খরচ হয়। চলতি মাসে এ খরচের হার কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মুডি’স অ্যানালিটিকসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ। গত বছরের তুলনায় জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের দাম গত ১২ মাসে বেড়েছে ১২ শতাংশ। ২০০৬ সালের পর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে, নিত্যকার জীবনযাপনে যে পণ্য লাগে তার সবগুলোরই দাম বেড়েছে। দেশটির একটি পরিবারের খাবারের জন্য মাথাপিছু ব্যয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

ডিমের দাম বেড়েছে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, দুধ ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্য শেল্টার ইনডেক্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খরচ বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ। সাধারণ নাগরিকদের এখন আবাসনের পেছনেই উপার্জনের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন ব্যবসা বড় রকমের ধাক্কা খায়। করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় এভিয়েশন কোম্পানিগুলো আশা করেছিল গত দুই বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেই আশা আর পূরণ হচ্ছে না।

মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) তাদের মূল সুদের হার ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ইউরো জোনের দেশগুলোতে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে এবার ১১ বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বাড়িয়েছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। ইউরো জোনে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং কোভিড মহামারির কারণে জ্বালানি, খাবারের দাম বেড়ে গেছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। কারণ ইইউ দেশগুলো প্রচণ্ডভাবে রাশিয়ার তেল এবং গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির প্রেক্ষাপটে মস্কো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলে দেশগুলো উদ্বিগ্ন।

বিশ্ববাজারে এ মুহূর্তে সারের দাম আকাশছোঁয়া। এর জেরে দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে মস্কোর উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে বাইডেন প্রশাসন সারসহ রাশিয়ার অন্য কোনো কৃষিপণ্যের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবু অনেক পশ্চিমা ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল নিয়মনীতির মধ্যে ঝামেলায় পড়ার ভয়ে রুশ কৃষিপণ্যের সরবরাহ এড়িয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর