থানায় ক্যামেরা আছে, নেই মনিটরিং

7
পুলিশের প্রায় সব থানা কম্পাউন্ড এখন সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। থানা অভ্যন্তরে হাজতখানা ছাড়াও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। এগুলো পালাক্রমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বও দেওয়া আছে। কিন্তু যথাযথ মনিটরিং করার অভাবে হাজতখানায় বন্দির মৃত্যু, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। খোদ রাজধানীতে গত ২ বছরে পুলিশের দাবি অনুযায়ী হাজতখানায় তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে সর্বশেষ শনিবার হাতিরঝিল থানা হাজতে সুমন শেখ ওরফে রুম্মনের আত্মহত্যার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এটিকে কোনোভাবেই আত্মহত্যা মানতে নারাজ তার পরিবার। এলাকাবাসী থানা ঘেরাওসহ নানাভাবে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করছে। লাশ মর্গে রেখে নিহতের স্ত্রী জান্নাত আরা গত দুদিন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে ঘুরছেন। যদিও সোমবার লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে একটি অপমৃত্যু জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। ইতোমধ্যে দায়িত্ব অবহেলায় ডিউটি অফিসার হেমায়েত উদ্দিন ও সেন্ট্রি জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে উত্তরা পূর্ব থানায় এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হাজতে দুজন আত্মহত্যা করলে এতটা ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়নি। তবে হাতিরঝিল থানা হেফাজতে এবারের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পুলিশকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সূত্র বলছে, এসব ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলাকে জিরো টলারেন্স হিসাবে দেখা হবে। জবাবদিহিতা ও শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর হবে। এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘থানা অভ্যন্তরে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতীতে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি থেকে বহু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন করে আর নির্দেশনা দেব না। কারও কোনো দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েই যাব, আর বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। এটা মানা যায় না।’ প্রসঙ্গত, শনিবার হাতিরঝিল থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় হাজতখানায় সুমন শেখ ওরফে রুম্মন (২৬) নামে পানির ফিল্টার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ওসি জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে থানা কম্পাউন্ডের সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে গেলে তিন শিফটে অন্তত দুজন করে দিনে ছয়জনকে দায়িত্বে রাখতে হয়। কিন্তু থানায় পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এটা সম্ভব হয় না। এছাড়া পুলিশের ডিসি অফিসেও পর্যাপ্ত লোকবল নেই। এ কারণে থানায় সিসি ক্যামেরা ঠিকমতো মনিটরিং করা হচ্ছে না। তারা বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের ৫০টি থানার হাজতখানায় সিসি ক্যামেরা আছে। উপকমিশনার (ডিসি) কার্যালয় থেকে শুরু করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পরিদর্শক (তদন্ত) ও ডিউটি অফিসারের রুমে আছে ক্যামেরার মনিটর। কিন্তু যথাযথভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে না এসব ক্যামেরা। এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কেএম হাফিজ আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ‘থানাগুলোতে যেসব সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে না। তবে কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো ঢাকা শহরের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করা হয়। থানার ক্যামেরাগুলো থানা থেকেই মনিটরিং হয়। সাম্প্রতিক সময়ে থানাগুলোর হাজতখানায় একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করছি, থানার ক্যামেরাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না।’ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, থানাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমত, যে কোনো ধরনের অপরাধ বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। দ্বিতীয়ত, অপরাধ ঘটার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা। তিনি জানান, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করার জন্য প্রতিটি থানায় আলাদা লোক নিয়োজিত আছে। তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে কোনো ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ফলে হাতিরঝিল থানা হেফাজতে আত্মহত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তা দায়িত্বরত সেন্ট্রি এবং সিসি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের দায়িত্ব থাকা পুলিশ সদস্যের অবশ্যই অবহেলা ছিল। পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, হাতিরঝিল থানাটি ভাড়া ভবনে। সেখানেও সিসি ক্যামেরা ছিল। তবে ক্যামেরা থাকার কারণেই থানার পদস্থ কর্মকর্তারা বেঁচে গেছেন। আত্মহত্যার বিষয়টি এখন প্রমাণিত। মাত্র দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে গেছে। তবে আইনের ভাষায় আত্মহত্যার দায়ও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এড়াতে পারবেন না। কারণ আসামি পুলিশ হেফাজতে ছিল। তিনি বলেন, ‘থানায় কখন কী ঘটছে তা জানার জন্যই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে যখন ঘটনাটি ঘটেছে তখন যদি ডিউটি অফিসার সিসি ক্যামেরার দিকে নজর রাখতেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারলে আত্মহত্যার ঘটনাটি এড়ানো যেত।’ এর আগে গত বছর ২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানা হেফাজতে মো. লিটন নামে এক বন্দি থানার হাজতখানায় আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে সেন্ট্রি ডিউটিতে থাকা কনস্টেবল এবং থানার ডিউটি অফিসারকে দায়ী করা হয়। শাস্তি হিসাবে তাদের বেতন কর্তন, পদাবনতি ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতে আবুবক্কর সিদ্দিক বাবু নামে এক আসামি মারা যান। ভোরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, ওই আসামি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। নিহত বাবু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ফ্লোর ইনচার্জ হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

নিউজ ডেস্ক: পুলিশের প্রায় সব থানা কম্পাউন্ড এখন সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। থানা অভ্যন্তরে হাজতখানা ছাড়াও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। এগুলো পালাক্রমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বও দেওয়া আছে। কিন্তু যথাযথ মনিটরিং করার অভাবে হাজতখানায় বন্দির মৃত্যু, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। খোদ রাজধানীতে গত ২ বছরে পুলিশের দাবি অনুযায়ী হাজতখানায় তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এরমধ্যে সর্বশেষ শনিবার হাতিরঝিল থানা হাজতে সুমন শেখ ওরফে রুম্মনের আত্মহত্যার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এটিকে কোনোভাবেই আত্মহত্যা মানতে নারাজ তার পরিবার। এলাকাবাসী থানা ঘেরাওসহ নানাভাবে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করছে। লাশ মর্গে রেখে নিহতের স্ত্রী জান্নাত আরা গত দুদিন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে ঘুরছেন। যদিও সোমবার লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে একটি অপমৃত্যু জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। ইতোমধ্যে দায়িত্ব অবহেলায় ডিউটি অফিসার হেমায়েত উদ্দিন ও সেন্ট্রি জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে উত্তরা পূর্ব থানায় এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হাজতে দুজন আত্মহত্যা করলে এতটা ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়নি। তবে হাতিরঝিল থানা হেফাজতে এবারের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পুলিশকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সূত্র বলছে, এসব ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলাকে জিরো টলারেন্স হিসাবে দেখা হবে। জবাবদিহিতা ও শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর হবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘থানা অভ্যন্তরে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতীতে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি থেকে বহু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন করে আর নির্দেশনা দেব না। কারও কোনো দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েই যাব, আর বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। এটা মানা যায় না।’

প্রসঙ্গত, শনিবার হাতিরঝিল থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় হাজতখানায় সুমন শেখ ওরফে রুম্মন (২৬) নামে পানির ফিল্টার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ওসি জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে থানা কম্পাউন্ডের সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে গেলে তিন শিফটে অন্তত দুজন করে দিনে ছয়জনকে দায়িত্বে রাখতে হয়। কিন্তু থানায় পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এটা সম্ভব হয় না। এছাড়া পুলিশের ডিসি অফিসেও পর্যাপ্ত লোকবল নেই। এ কারণে থানায় সিসি ক্যামেরা ঠিকমতো মনিটরিং করা হচ্ছে না। তারা বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের ৫০টি থানার হাজতখানায় সিসি ক্যামেরা আছে। উপকমিশনার (ডিসি) কার্যালয় থেকে শুরু করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পরিদর্শক (তদন্ত) ও ডিউটি অফিসারের রুমে আছে ক্যামেরার মনিটর। কিন্তু যথাযথভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে না এসব ক্যামেরা।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কেএম হাফিজ আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ‘থানাগুলোতে যেসব সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে না। তবে কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো ঢাকা শহরের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করা হয়। থানার ক্যামেরাগুলো থানা থেকেই মনিটরিং হয়। সাম্প্রতিক সময়ে থানাগুলোর হাজতখানায় একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করছি, থানার ক্যামেরাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, থানাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমত, যে কোনো ধরনের অপরাধ বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। দ্বিতীয়ত, অপরাধ ঘটার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা। তিনি জানান, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করার জন্য প্রতিটি থানায় আলাদা লোক নিয়োজিত আছে। তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে কোনো ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ফলে হাতিরঝিল থানা হেফাজতে আত্মহত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তা দায়িত্বরত সেন্ট্রি এবং সিসি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের দায়িত্ব থাকা পুলিশ সদস্যের অবশ্যই অবহেলা ছিল।

পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, হাতিরঝিল থানাটি ভাড়া ভবনে। সেখানেও সিসি ক্যামেরা ছিল। তবে ক্যামেরা থাকার কারণেই থানার পদস্থ কর্মকর্তারা বেঁচে গেছেন। আত্মহত্যার বিষয়টি এখন প্রমাণিত। মাত্র দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে গেছে। তবে আইনের ভাষায় আত্মহত্যার দায়ও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এড়াতে পারবেন না। কারণ আসামি পুলিশ হেফাজতে ছিল। তিনি বলেন, ‘থানায় কখন কী ঘটছে তা জানার জন্যই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে যখন ঘটনাটি ঘটেছে তখন যদি ডিউটি অফিসার সিসি ক্যামেরার দিকে নজর রাখতেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারলে আত্মহত্যার ঘটনাটি এড়ানো যেত।’

এর আগে গত বছর ২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানা হেফাজতে মো. লিটন নামে এক বন্দি থানার হাজতখানায় আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে সেন্ট্রি ডিউটিতে থাকা কনস্টেবল এবং থানার ডিউটি অফিসারকে দায়ী করা হয়। শাস্তি হিসাবে তাদের বেতন কর্তন, পদাবনতি ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়।

২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতে আবুবক্কর সিদ্দিক বাবু নামে এক আসামি মারা যান। ভোরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, ওই আসামি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। নিহত বাবু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ফ্লোর ইনচার্জ হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

সূত্র: যুগান্তর