পক্ষাঘাতগ্রস্ত নাছিমার মানবেতর জীবন

10
নাটোরের বাগাতিপাড়ার বিধবা নাছিমা বেওয়া (৪৫) পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন দীর্ঘ নয় মাস ধরে। তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে ১৪ বছর লড়াই করে আজ শয্যাশায়ী এই নারী। তবুও বিধবা ভাতা বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পাননি তিনি। উপজেলার নন্দীকুজা চিথলীপাড়া গ্রামে ঝুপড়ি বাড়িতে মেয়েদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুপড়ি বাড়িতে থাকেন নাছিমা। একটি ঘরের মেঝেতে মাটির ওপর বিছানায় শুয়ে আছেন। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও নেই। ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে চেয়ে দেখছেন। সেখানে তার বড় মেয়ে জেসমিন খাতুন জানান, ২০০৮ সালে তার বাবা মারা যান। এরপর মা নাছিমা বেওয়া ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। মেঝ মেয়ে ইয়াছমিন খাতুন সাংসারিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতে শুরু করেন। কিন্তু নয় মাস আগে মা নাছিমা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরপর ছোট বোন আর মায়ের দেখাশোনা করতে চাকরি ছেড়ে তাকে চলে আসতে হয়। বর্তমানে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ছোট বোন ফাতেমার বিয়ে পড়িয়ে রাখা হয়েছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে মায়ের চিকিৎসার টাকা এবং ছোট বোনের বিয়ে উঠিয়ে দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেঝ মেয়ে ইয়াছমিন খাতুন। তিনি জানান, তার মা ১৪ বছর পূর্বে বিধবা হলেও কোনো বিধবা ভাতা বা সরকারি আর্থিক অন্য কোনো সুবিধা পাননা। প্রতিবেশিরা জানান, আয় রোজগার করার মতো তাদের সংসারে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। তিন কন্যাকে নিয়ে নাছিমা অনেক কষ্টে চলতেন। কিন্তু স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শয্যাগত হলে তাদের দুরবস্থা আরও বেড়ে যায়। প্রতিবেশিরা দু-এক বেলা খাবার দিলেও সবসময় তো আর দিতে পারে না। অসহায় পরিবারটির সরকারি সহায়তার দরকার বলে মনে করেন তারা। এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমাজসেবা দপ্তরে আবেদন করলে নীতিমালা অনুযায়ী নাছিমা বেওয়াকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) নিশাত আনজুম অনন্যা বলেন, তাদের পরিবার থেকে আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব তাদের সহযোগিতা করা হবে।

নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বাগাতিপাড়ার বিধবা নাছিমা বেওয়া (৪৫) পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন দীর্ঘ নয় মাস ধরে। তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে ১৪ বছর লড়াই করে আজ শয্যাশায়ী এই নারী।

তবুও বিধবা ভাতা বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পাননি তিনি। উপজেলার নন্দীকুজা চিথলীপাড়া গ্রামে ঝুপড়ি বাড়িতে মেয়েদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুপড়ি বাড়িতে থাকেন নাছিমা। একটি ঘরের মেঝেতে মাটির ওপর বিছানায় শুয়ে আছেন। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও নেই। ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে চেয়ে দেখছেন।

সেখানে তার বড় মেয়ে জেসমিন খাতুন জানান, ২০০৮ সালে তার বাবা মারা যান। এরপর মা নাছিমা বেওয়া ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। মেঝ মেয়ে ইয়াছমিন খাতুন সাংসারিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতে শুরু করেন। কিন্তু নয় মাস আগে মা নাছিমা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

এরপর ছোট বোন আর মায়ের দেখাশোনা করতে চাকরি ছেড়ে তাকে চলে আসতে হয়। বর্তমানে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ছোট বোন ফাতেমার বিয়ে পড়িয়ে রাখা হয়েছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে মায়ের চিকিৎসার টাকা এবং ছোট বোনের বিয়ে উঠিয়ে দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেঝ মেয়ে ইয়াছমিন খাতুন।

তিনি জানান, তার মা ১৪ বছর পূর্বে বিধবা হলেও কোনো বিধবা ভাতা বা সরকারি আর্থিক অন্য কোনো সুবিধা পাননা।

প্রতিবেশিরা জানান, আয় রোজগার করার মতো তাদের সংসারে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। তিন কন্যাকে নিয়ে নাছিমা অনেক কষ্টে চলতেন। কিন্তু স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শয্যাগত হলে তাদের দুরবস্থা আরও বেড়ে যায়। প্রতিবেশিরা দু-এক বেলা খাবার দিলেও সবসময় তো আর দিতে পারে না। অসহায় পরিবারটির সরকারি সহায়তার দরকার বলে মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমাজসেবা দপ্তরে আবেদন করলে নীতিমালা অনুযায়ী নাছিমা বেওয়াকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) নিশাত আনজুম অনন্যা বলেন, তাদের পরিবার থেকে আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব তাদের সহযোগিতা করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর