রোহিঙ্গা সংকট জলবায়ু পরিবর্তন মূল এজেন্ডা

12
জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রধান এজেন্ডা রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন। তবে সফরকালে তিনি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এসব বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য সরকারের তরফে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মিশেল ব্যাচেলেট চার দিনের সফরে আগামী ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসছেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তার এই সফর। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার পৃথক বৈঠক হবে। তিনি ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জাতিসংঘ মানবাধিকারের পদ ছেড়ে দেওয়ার আগে মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশে আসছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আরেকবারের জন্য তিনি এই পদে থাকবেন না বলে জুনে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ সফর জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান হিসাবে তার শেষ বিদেশ সফর বলে জানা গেছে। সফরকালে ঢাকায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরকালে তিনি ঢাকার বাইরে কক্সবাজার যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। আগামী ১৭ আগস্ট তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মিশেল ব্যাচেলেট আমার ২০ বছরের বেশি সময়ের পুরনো বন্ধু। অনেক দিন ধরে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলেও ব্যস্ততার কারণে আসতে পারছিলেন না। এখন তিনি বিদায়ের আগে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা খুব খুশি। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সব বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ মানবাধিকারের স্পর্শকাতর প্রশ্নের জবাব দিতে সরকার কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের সব কথা বলব। আমরা পারফেক্ট নই। আমাদের দুর্বলতা আছে। কোনো দেশই পারফেক্ট নয়। পৃথিবীর সব দেশেরই দুর্বলতা আছে। সব দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। আমাদের দেশে তুলনামূলক কম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।’ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের গুমসংক্রান্ত কমিটি ৭৬ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য দিয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের মধ্যে ১০ জনকে পাওয়া গেছে। বাকিরা বিভিন্ন কারণে নিখোঁজ। সরকার তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশের কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অকাজ করলে তার বিচার হবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরী বিদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না?’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মিশেল ব্যাচেলেটের সফরের মূল এজেন্ডা রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের দুরবস্থার বিষয়। তবে তিনি মানবাধিকারসংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। তিনি কী বিষয়ে কথা বলবেন সেটা আমরা জানি না। সেটা তিনিই জানেন। গুমের বিষয়ে আলাদা কমিটি আছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করলে আমরা আমাদের অবস্থান জানাব। যে ১০ জনকে পাওয়া গেছে তাদের নাম গুমের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধানের সফরের আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়াবাড়ি তথা নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রধান হিসাবে তিনি এসব প্রশ্ন তুলবেন কিনা নিশ্চিত নন। তবে এসব প্রশ্ন তুললে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে। জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার বিষয়ে ওয়াকিবহাল বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মুজাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, মিশেল ব্যাচেলেট জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যিনি সংস্থাটির মানবাধিকারপ্রধান। তিনি এই সংস্থার বিদায়ী প্রধান হিসাবে আসছেন তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জটিল বিষয়ে কঠিন প্রশ্নে নাও যেতে পারেন। তবে রোহিঙ্গা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় বিষয় হওয়ায় এসব বিষয়ে তার বেশি আগ্রহ থাকবে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো ইস্যুতে জাতিসংঘে আলাদা ওয়ার্কিং গ্রুপ কিংবা র‌্যাপোটিয়ার আছে। তবে এই আইনজীবী মনে করেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ এসব ইস্যুতে তিনি কিছুটা হলেও প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন। এটা তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়। মিশেল ব্যাচেলেট একজন রাজনীতিবিদ। তিনি দুই দফায় চিলির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট তিনি। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। মিশেল ব্যাচেলেট লাতিন আমেরিকার প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউএন ওম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন। তিনি সার্জারিবিষয়ক মেডিকেল ডিগ্রিধারী।

নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রধান এজেন্ডা রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন। তবে সফরকালে তিনি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এসব বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য সরকারের তরফে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মিশেল ব্যাচেলেট চার দিনের সফরে আগামী ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসছেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তার এই সফর। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার পৃথক বৈঠক হবে। তিনি ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকারের পদ ছেড়ে দেওয়ার আগে মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশে আসছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আরেকবারের জন্য তিনি এই পদে থাকবেন না বলে জুনে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ সফর জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান হিসাবে তার শেষ বিদেশ সফর বলে জানা গেছে।

সফরকালে ঢাকায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরকালে তিনি ঢাকার বাইরে কক্সবাজার যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। আগামী ১৭ আগস্ট তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মিশেল ব্যাচেলেট আমার ২০ বছরের বেশি সময়ের পুরনো বন্ধু। অনেক দিন ধরে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলেও ব্যস্ততার কারণে আসতে পারছিলেন না। এখন তিনি বিদায়ের আগে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা খুব খুশি। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সব বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ মানবাধিকারের স্পর্শকাতর প্রশ্নের জবাব দিতে সরকার কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের সব কথা বলব। আমরা পারফেক্ট নই। আমাদের দুর্বলতা আছে। কোনো দেশই পারফেক্ট নয়। পৃথিবীর সব দেশেরই দুর্বলতা আছে। সব দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। আমাদের দেশে তুলনামূলক কম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।’

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের গুমসংক্রান্ত কমিটি ৭৬ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের মধ্যে ১০ জনকে পাওয়া গেছে। বাকিরা বিভিন্ন কারণে নিখোঁজ। সরকার তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশের কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অকাজ করলে তার বিচার হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরী বিদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না?’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মিশেল ব্যাচেলেটের সফরের মূল এজেন্ডা রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের দুরবস্থার বিষয়। তবে তিনি মানবাধিকারসংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। তিনি কী বিষয়ে কথা বলবেন সেটা আমরা জানি না। সেটা তিনিই জানেন। গুমের বিষয়ে আলাদা কমিটি আছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করলে আমরা আমাদের অবস্থান জানাব। যে ১০ জনকে পাওয়া গেছে তাদের নাম গুমের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।

জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধানের সফরের আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়াবাড়ি তথা নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রধান হিসাবে তিনি এসব প্রশ্ন তুলবেন কিনা নিশ্চিত নন। তবে এসব প্রশ্ন তুললে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার বিষয়ে ওয়াকিবহাল বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মুজাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, মিশেল ব্যাচেলেট জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যিনি সংস্থাটির মানবাধিকারপ্রধান। তিনি এই সংস্থার বিদায়ী প্রধান হিসাবে আসছেন তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জটিল বিষয়ে কঠিন প্রশ্নে নাও যেতে পারেন। তবে রোহিঙ্গা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় বিষয় হওয়ায় এসব বিষয়ে তার বেশি আগ্রহ থাকবে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো ইস্যুতে জাতিসংঘে আলাদা ওয়ার্কিং গ্রুপ কিংবা র‌্যাপোটিয়ার আছে। তবে এই আইনজীবী মনে করেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ এসব ইস্যুতে তিনি কিছুটা হলেও প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন। এটা তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়।

মিশেল ব্যাচেলেট একজন রাজনীতিবিদ। তিনি দুই দফায় চিলির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট তিনি। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। মিশেল ব্যাচেলেট লাতিন আমেরিকার প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউএন ওম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন। তিনি সার্জারিবিষয়ক মেডিকেল ডিগ্রিধারী।

সূত্র: যুগান্তর