ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চায় আন্তরিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

5
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতির প্রচেষ্ট চালিয়েছে। দেশের যুবসমাজকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চাসহ সমাজসেবায় আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সমাজসেবাসহ সবদিকে আরও উদ্যোগী হতে হবে এবং নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করবে। এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা। শুক্রবার শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিকনির্দেশনা রেখে গেছেন তা থেকে আমাদের যুব সমাজ তাদের চলার পথে তার আদর্শকে সামনে রেখে তা অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমরা শুধু দেশে নয়, বিশ্ব তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন আমাদের মেধা ও মননকে বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদাটাকে আরও উন্নত করতে পারি। তিনি বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দুস্থদের সেবায় শেখ কামাল যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার সিড মানি দিয়ে বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই, আধুনিক ফুটবল খেলা এবং আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলাধুলায় ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন কামাল। পাশাপাশি সংগীত চর্চায় স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন দেশীয় গানকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে তুলে জনপ্রিয় করার কাজটিও কামাল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে গেছেন। কেননা বহুমুখী প্রতিভা নিয়েই জন্মেছিলেন শেখ কামাল। স্মৃতি রোমন্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসার ছাদে তার সঙ্গীত দলের অনুশীলন চলত। যেখানে ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নাসিরউদ্দিনসহ অনেকেই আসতেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জাতির পিতার বাড়িটিকে মিউজিয়াম করা হলে সেখানে ফিরোজ সাঁই কামালের অর্গান, যেটি দিয়ে তিনি গান তুলতেন সেটি দিয়ে যান। তিনি বলেন, শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেণির লেখাপড়া শেষ না হওয়ায় তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হয়। কিন্তু মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার আগেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তিনি বলেন, শেখ কামাল সব সময় অত্যন্ত সাদাসিধাভাবে চলাফেরা করতেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসাবে তার কোনো অহঙ্কার ছিল না। শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয়, রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তার যেমন দূরদর্শিতা ছিল, তেমনি লেখাপড়াতেও ছিলেন মেধাবী। শেখ হাসিনা বলেন, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করলে তৎকালীন ইপিআর এর ওয়্যারলেস যোগে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের বন্দি করা হলে কামাল লুকিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় কামালকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- লেখাপড়া করার জন্য সব রকমের সহযোগিতা করবেন। কিন্তু কামাল তাতে রাজি না হয়ে বরং বলেন, আমি যুদ্ধ করতে এসেছি, যুদ্ধই করব, ট্রেনিং নেব। সে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীর এডিসি নিযুক্ত হন। সে ও মেজর নূর কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। শেখ কামালের ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ছোট্ট কামালকে নিয়ে কারাগারে বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখতে যাওয়ারও টুকরো স্মৃতির উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, কামালের জন্মের পরপরই আব্বা গ্রেফতার হন এবং ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। কামালের ছোটবেলায় আমি যেমন আব্বাকে দেখে আব্বা আব্বা বলে ছুটে যেতাম ও ঠিক তেমনটা যেতে পারত না। আমাকে জিগ্যেস করত, এভাবে ওর ভেতর সবসময় একটা অতৃপ্তি ছিল। তবে, আব্বা বের হওয়ার পরপর (কারা মুক্তির) তাকে যথেষ্ট আদর করতেন, কেননা ছোটবেলায় সে বাবার আদর বঞ্চিত হয়েছিল। ১৫ আগস্টের নির্মমভাবে হত্যা করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কামাল ও খুনি নূর একই সঙ্গে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস- নূরই প্রথম আসে। কামাল মনে হয়- ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলেন তাকে দেখে। ভেবেছিলেন বোধহয় তারা উদ্ধার করতে এসেছেন। কিন্তু তারা যে ঘাতক হয়েছে সেটা বোধহয় জানত না। কারণ প্রথম তারা কামালকে গুলি করে। এরপর একে একে পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রবর্তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন- এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে শেখ কামালের অবদান সবার মনে থাকবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী হাবলু স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত ‘এক আলোর পথের যাত্রী’ শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। পরে শেখ কামালকে নিয়ে রচিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল আলোকিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক সচিত্র স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বিভাগে লিটন কুমার দাস (ক্রিকেট), আবদুল্লাহ হেল বাকী (শুটিং) ও মোল্লা সাবিরা সুলতানা (ভারোত্তোলন) পুরস্কার পেয়েছেন। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হয়েছেন দুজন, দিয়া সিদ্দিক (তিরন্দাজি) ও মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম (ক্রিকেট)। ক্রীড়া সংগঠক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন দুজন-সাইদুর রহমান প্যাটেল ও নাজমা শামীম। ক্রীড়া সংস্থা/ফেডারেশন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক সমিতি এবং ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক হিসাবে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড পুরস্কার লাভ করে। ক্রীড়া সাংবাদিক হিসাবে কাশীনাথ বসাক পুরস্কার লাভ করেছেন। পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেকেই পেয়েছেন এক লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সনদ। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ কামাল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বিপথগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতাসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। নেপালকে মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও পারস্পরিক সুবিধার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পাশাপাশি মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের জন্য নেপালকে প্রস্তাব দিয়েছেন। নেপালের সফররত সংসদীয় প্রতিনিধি দল শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপাল আমাদের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে সুবিধা নিতে পারে। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত করার আগ্রহ প্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে সমর্থন করায় নেপালের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, নেপালসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে তার সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নেপালের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারপারসন পবিত্র নিরুওলা খারেল। প্রতিনিধি দল ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং বাংলাদেশ সংসদ পরিদর্শন করা। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে। সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উদযাপনের জন্য বছরটি উভয় দেশের জন্য খুব তাৎপর্যপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশ বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, পর্যটন, শিক্ষা, আইসিটি, সংযোগ এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের মতো খাতে তাদের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে পারে। তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সফরের ওপর জোর দেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রশংসা ও অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বলে তারা অভিহিত করেন।

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতির প্রচেষ্ট চালিয়েছে।

দেশের যুবসমাজকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চাসহ সমাজসেবায় আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সমাজসেবাসহ সবদিকে আরও উদ্যোগী হতে হবে এবং নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করবে। এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা। শুক্রবার শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিকনির্দেশনা রেখে গেছেন তা থেকে আমাদের যুব সমাজ তাদের চলার পথে তার আদর্শকে সামনে রেখে তা অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমরা শুধু দেশে নয়, বিশ্ব তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন আমাদের মেধা ও মননকে বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদাটাকে আরও উন্নত করতে পারি।

তিনি বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দুস্থদের সেবায় শেখ কামাল যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার সিড মানি দিয়ে বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই, আধুনিক ফুটবল খেলা এবং আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলাধুলায় ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন কামাল। পাশাপাশি সংগীত চর্চায় স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন দেশীয় গানকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে তুলে জনপ্রিয় করার কাজটিও কামাল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে গেছেন। কেননা বহুমুখী প্রতিভা নিয়েই জন্মেছিলেন শেখ কামাল।

স্মৃতি রোমন্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসার ছাদে তার সঙ্গীত দলের অনুশীলন চলত। যেখানে ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নাসিরউদ্দিনসহ অনেকেই আসতেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জাতির পিতার বাড়িটিকে মিউজিয়াম করা হলে সেখানে ফিরোজ সাঁই কামালের অর্গান, যেটি দিয়ে তিনি গান তুলতেন সেটি দিয়ে যান।

তিনি বলেন, শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেণির লেখাপড়া শেষ না হওয়ায় তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হয়। কিন্তু মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার আগেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

তিনি বলেন, শেখ কামাল সব সময় অত্যন্ত সাদাসিধাভাবে চলাফেরা করতেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসাবে তার কোনো অহঙ্কার ছিল না। শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয়, রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তার যেমন দূরদর্শিতা ছিল, তেমনি লেখাপড়াতেও ছিলেন মেধাবী।

শেখ হাসিনা বলেন, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করলে তৎকালীন ইপিআর এর ওয়্যারলেস যোগে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের বন্দি করা হলে কামাল লুকিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান।

শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় কামালকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- লেখাপড়া করার জন্য সব রকমের সহযোগিতা করবেন। কিন্তু কামাল তাতে রাজি না হয়ে বরং বলেন, আমি যুদ্ধ করতে এসেছি, যুদ্ধই করব, ট্রেনিং নেব। সে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীর এডিসি নিযুক্ত হন। সে ও মেজর নূর কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। শেখ কামালের ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ছোট্ট কামালকে নিয়ে কারাগারে বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখতে যাওয়ারও টুকরো স্মৃতির উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, কামালের জন্মের পরপরই আব্বা গ্রেফতার হন এবং ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। কামালের ছোটবেলায় আমি যেমন আব্বাকে দেখে আব্বা আব্বা বলে ছুটে যেতাম ও ঠিক তেমনটা যেতে পারত না। আমাকে জিগ্যেস করত, এভাবে ওর ভেতর সবসময় একটা অতৃপ্তি ছিল। তবে, আব্বা বের হওয়ার পরপর (কারা মুক্তির) তাকে যথেষ্ট আদর করতেন, কেননা ছোটবেলায় সে বাবার আদর বঞ্চিত হয়েছিল।

১৫ আগস্টের নির্মমভাবে হত্যা করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কামাল ও খুনি নূর একই সঙ্গে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস- নূরই প্রথম আসে। কামাল মনে হয়- ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলেন তাকে দেখে। ভেবেছিলেন বোধহয় তারা উদ্ধার করতে এসেছেন। কিন্তু তারা যে ঘাতক হয়েছে সেটা বোধহয় জানত না। কারণ প্রথম তারা কামালকে গুলি করে। এরপর একে একে পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রবর্তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন- এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে শেখ কামালের অবদান সবার মনে থাকবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী হাবলু স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত ‘এক আলোর পথের যাত্রী’ শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। পরে শেখ কামালকে নিয়ে রচিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল আলোকিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক সচিত্র স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বিভাগে লিটন কুমার দাস (ক্রিকেট), আবদুল্লাহ হেল বাকী (শুটিং) ও মোল্লা সাবিরা সুলতানা (ভারোত্তোলন) পুরস্কার পেয়েছেন। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হয়েছেন দুজন, দিয়া সিদ্দিক (তিরন্দাজি) ও মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম (ক্রিকেট)।

ক্রীড়া সংগঠক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন দুজন-সাইদুর রহমান প্যাটেল ও নাজমা শামীম। ক্রীড়া সংস্থা/ফেডারেশন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক সমিতি এবং ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক হিসাবে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড পুরস্কার লাভ করে। ক্রীড়া সাংবাদিক হিসাবে কাশীনাথ বসাক পুরস্কার লাভ করেছেন। পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেকেই পেয়েছেন এক লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সনদ।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ কামাল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বিপথগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতাসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

নেপালকে মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও পারস্পরিক সুবিধার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পাশাপাশি মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের জন্য নেপালকে প্রস্তাব দিয়েছেন। নেপালের সফররত সংসদীয় প্রতিনিধি দল শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপাল আমাদের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে সুবিধা নিতে পারে। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে সমর্থন করায় নেপালের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, নেপালসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে তার সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নেপালের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারপারসন পবিত্র নিরুওলা খারেল। প্রতিনিধি দল ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং বাংলাদেশ সংসদ পরিদর্শন করা। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে।

সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উদযাপনের জন্য বছরটি উভয় দেশের জন্য খুব তাৎপর্যপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশ বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, পর্যটন, শিক্ষা, আইসিটি, সংযোগ এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের মতো খাতে তাদের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে পারে। তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সফরের ওপর জোর দেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রশংসা ও অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বলে তারা অভিহিত করেন।

সূত্র: যুগান্তর