ভারসাম্যহীন অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক

11
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। যেভাবে আমদানি ব্যয় বেড়েছে সেভাবে বাড়েনি রপ্তানি আয়। একই সঙ্গে কমেছে রেমিট্যান্স। ফলে বাজারে ডলারের প্রবাহ কমেছে। এতে দাম বেড়েছে লাগামহীন গতিতে। এ কারণে মূল্যস্ফীতিতে চাপও পড়ে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ও সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। মূলত ডলার সংকটে এসব ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে ভারসাম্যহীনতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগে এ হার খুব সামান্য হারে কমত। আমদানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। আগে বাড়ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। বৈদেশিক বাজারে প্রতিমাসে ঘাটতি হয়েছে ২৫০ কোটি ডলার। আগে উদ্বৃত্ত থাকত। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। আগে বাড়ত ১৫ শতাংশের মতো। চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ৬ গুণ। আগে উদ্বৃত্ত থাকত। মূল্যস্ফীতির হার ৫-৬ শতাংশের মাধ্য থাকত। এখন তা বেড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ ভারসাম্যহীনতার কারণে মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। ফলে জীবনযাত্রার মান কমেছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষ বেশ কষ্টে আছে। সরকারিভাবে ব্যয় সাশ্রয়ে লোডশেডিংসহ বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হচ্ছে। এতে বেকারদের কর্মসংস্থানে ভাটা পড়ার শঙ্কা আছে। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়া ও ডলারের সরবরাহ সংকটের কারণেই দেশের অর্থনীতিতে চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর সরকারের হাত নেই। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। এ জন্য মুদ্রা পাচার বন্ধ ও রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে হুন্ডি বন্ধ করলেই এ সংকট অনেকটা মোকাবিলা করা সহজ হবে। গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় হয়েছে বেশি। আয়ের মধ্যে রপ্তানি আয় বেড়েছে সাড়ে ৩৪ শতাংশ। এর বিপরীতে রেমিট্যান্স থেকে আয় কমেছে ১৫ শতাংশ। বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ এসেছে ৭৫২ কোটি ডলার এবং অনুদান এসেছে ৭০০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এলসি খোলা বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতেও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বেড়েছে। এসব মিলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে বেশি। বর্তমানে প্রতিমাসে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাত মিলিয়ে গড়ে ১ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ মিলিয়ে ৭৫০ কোটি ডলার পাওয়া যায়। এতে প্রতিমাসে ঘাটতি থাকে ২৫০ কোটি ডলার। এ ঘাটতির কিছু অংশ এখন রিজার্ভ থেকে মেটানো হয়। বাকি অর্থ পরিশোধ স্থগিত করে ঋণ হিসাবে নেওয়া হচ্ছে। এতে ঋণের অঙ্ক বাড়ছে। গত অর্থবছরে বাজারে চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। জুলাইয়ে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। এতে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ ছিল সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। প্রায় দুই বছর রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের উপরে ছিল। জুলাইয়ের শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। এখনও নামছে। বর্তমানে রিজার্ভ ৩৯৬৭ কোটি ডলারা। যা দিয়ে চার মাসেরও কম সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কমপক্ষে সাত মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। আগে দেশের মোট আমদানি ব্যয়ের ৬০ শতাংশ মেটানো হতো রপ্তানি আয় দিয়ে। বাকি ৪০ শতাংশ মেটানো হতো রেম্যিাটন্স দিয়ে। বর্তমানে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ৫০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে রেমিট্যান্স আয় কমায় ৪০ শতাংশ মেটানোও যাচ্ছে না। ফলে আমদানির ডলার জোগান দিতে গিয়ে বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে হু হু করে ডলারের দাম বাড়ছে। ২০২০ জানুয়ারিতে প্রতি ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সায়। ওই সময়ে ডলারের দাম বেড়েছে ৯ টাকা ৮৫ পয়সা। শতকরা হিসাবে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়া ও টাকার মান কমার কারণে একদিকে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। অন্যদিকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে। এতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। রপ্তানির চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। গত অর্থবছরের মে পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি হয়েছিল ১৯০০ কোটি ডলার। এ ঘাটতি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতিও রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত এ ঘাটতি হয়েছে ১৭২৬ কোটি ডলার। এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘাটতি হয়েছিল ২৭৮ কোটি ডলার। এ খাতে ঘাটতি বেড়েছে ৬ গুণের বেশি। করোনার সময়ে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। করোনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় পণ্যের দাম বাড়ে। একই সঙ্গে দেশে রপ্তানির অর্ডারও আসতে থাকে ব্যাপক হারে। ফলে দেশের আমদানি ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত বছরের আগস্টে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২২ শতাংশ। রেমিট্যান্স কমেছে ২৫ শতাংশ। এরই মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে সারা বিশ্বে পণ্যের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। একই সঙ্গে দামও হু হু করে বেড়ে যায়। ওই সময়ে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম, গড়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ে। এতে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বাড়ে জ্বালানি পণ্যের দাম। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস্য রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। এর বাইরে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে কিছু ডলার আসে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রধান খাত হচ্ছে আমদানি ব্যয়। এর বাইরে ঋণ পরিশোধ, ভ্রমণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে কিছু ডলার ব্যয় হয়।

নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। যেভাবে আমদানি ব্যয় বেড়েছে সেভাবে বাড়েনি রপ্তানি আয়। একই সঙ্গে কমেছে রেমিট্যান্স।

ফলে বাজারে ডলারের প্রবাহ কমেছে। এতে দাম বেড়েছে লাগামহীন গতিতে। এ কারণে মূল্যস্ফীতিতে চাপও পড়ে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ও সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। মূলত ডলার সংকটে এসব ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে ভারসাম্যহীনতা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগে এ হার খুব সামান্য হারে কমত।

আমদানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। আগে বাড়ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। বৈদেশিক বাজারে প্রতিমাসে ঘাটতি হয়েছে ২৫০ কোটি ডলার। আগে উদ্বৃত্ত থাকত। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। আগে বাড়ত ১৫ শতাংশের মতো। চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ৬ গুণ।

আগে উদ্বৃত্ত থাকত। মূল্যস্ফীতির হার ৫-৬ শতাংশের মাধ্য থাকত। এখন তা বেড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ ভারসাম্যহীনতার কারণে মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। ফলে জীবনযাত্রার মান কমেছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষ বেশ কষ্টে আছে।

সরকারিভাবে ব্যয় সাশ্রয়ে লোডশেডিংসহ বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হচ্ছে। এতে বেকারদের কর্মসংস্থানে ভাটা পড়ার শঙ্কা আছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়া ও ডলারের সরবরাহ সংকটের কারণেই দেশের অর্থনীতিতে চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

এখন আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর সরকারের হাত নেই। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। এ জন্য মুদ্রা পাচার বন্ধ ও রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে হুন্ডি বন্ধ করলেই এ সংকট অনেকটা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় হয়েছে বেশি। আয়ের মধ্যে রপ্তানি আয় বেড়েছে সাড়ে ৩৪ শতাংশ। এর বিপরীতে রেমিট্যান্স থেকে আয় কমেছে ১৫ শতাংশ। বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ এসেছে ৭৫২ কোটি ডলার এবং অনুদান এসেছে ৭০০ কোটি ডলার।

এর বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এলসি খোলা বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতেও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বেড়েছে। এসব মিলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে বেশি।

বর্তমানে প্রতিমাসে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাত মিলিয়ে গড়ে ১ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ মিলিয়ে ৭৫০ কোটি ডলার পাওয়া যায়।

এতে প্রতিমাসে ঘাটতি থাকে ২৫০ কোটি ডলার। এ ঘাটতির কিছু অংশ এখন রিজার্ভ থেকে মেটানো হয়। বাকি অর্থ পরিশোধ স্থগিত করে ঋণ হিসাবে নেওয়া হচ্ছে। এতে ঋণের অঙ্ক বাড়ছে।

গত অর্থবছরে বাজারে চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। জুলাইয়ে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। এতে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ ছিল সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

প্রায় দুই বছর রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের উপরে ছিল। জুলাইয়ের শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। এখনও নামছে। বর্তমানে রিজার্ভ ৩৯৬৭ কোটি ডলারা।

যা দিয়ে চার মাসেরও কম সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কমপক্ষে সাত মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

আগে দেশের মোট আমদানি ব্যয়ের ৬০ শতাংশ মেটানো হতো রপ্তানি আয় দিয়ে। বাকি ৪০ শতাংশ মেটানো হতো রেম্যিাটন্স দিয়ে। বর্তমানে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ৫০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে রেমিট্যান্স আয় কমায় ৪০ শতাংশ মেটানোও যাচ্ছে না। ফলে আমদানির ডলার জোগান দিতে গিয়ে বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে হু হু করে ডলারের দাম বাড়ছে। ২০২০ জানুয়ারিতে প্রতি ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা।

এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সায়। ওই সময়ে ডলারের দাম বেড়েছে ৯ টাকা ৮৫ পয়সা। শতকরা হিসাবে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়া ও টাকার মান কমার কারণে একদিকে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। অন্যদিকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে। এতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। গত অর্থবছরের মে পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি হয়েছিল ১৯০০ কোটি ডলার। এ ঘাটতি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতিও রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত এ ঘাটতি হয়েছে ১৭২৬ কোটি ডলার। এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘাটতি হয়েছিল ২৭৮ কোটি ডলার। এ খাতে ঘাটতি বেড়েছে ৬ গুণের বেশি।

করোনার সময়ে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। করোনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় পণ্যের দাম বাড়ে। একই সঙ্গে দেশে রপ্তানির অর্ডারও আসতে থাকে ব্যাপক হারে।

ফলে দেশের আমদানি ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত বছরের আগস্টে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২২ শতাংশ। রেমিট্যান্স কমেছে ২৫ শতাংশ।

এরই মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে সারা বিশ্বে পণ্যের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। একই সঙ্গে দামও হু হু করে বেড়ে যায়। ওই সময়ে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম, গড়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ে।

এতে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বাড়ে জ্বালানি পণ্যের দাম। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস্য রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। এর বাইরে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে কিছু ডলার আসে।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রধান খাত হচ্ছে আমদানি ব্যয়। এর বাইরে ঋণ পরিশোধ, ভ্রমণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে কিছু ডলার ব্যয় হয়।

সূত্র: যুগান্তর