খোলাবাজারে ডলার ১১২ টাকা

9
খোলাবাজারে বা কার্ব মার্কেটে ডলারের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এর বিপরীতে সরবরাহ বাড়েনি। ফলে ব্যাংকের মতো এখানেও (খোলাবাজার) ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে দাম বাড়ছে হু হু করে। মঙ্গলবার খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১১২ টাকায় উঠেছে। আগের দিন প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে গড়ে ১০৪ টাকা করে। একদিনের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম সর্বোচ্চ ৮ টাকা বেড়েছে। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে এটিই রেকর্ড। আগে কখনও এত বেশি বাড়েনি। সূত্র জানায়, দেশে বেশিরভাগ নগদ ডলার আসে প্রবাসী ও পর্যটকদের মাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়ে ফেরত আসার সময়ও অনেকের কাছে কিছু ডলার থাকে। সেগুলোও বাজারে আসে। করোনার সময় থেকে প্রবাসীদের দেশে আসা কমে গেছে। একই সঙ্গে কমেছে পর্যটকদের সংখ্যাও। দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা যেমন কমেছে, তেমনি বিদেশ থেকে আসার সময় নগদ ডলার নিয়ে আসার প্রবণতাও কমেছে। ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম বেশি বলে এসব ডলারের বড় একটি অংশ কার্ব মার্কেটে বিক্রি হয়। তবে কিছু অংশ ব্যাংকেও বিক্রি হয়। আরও কিছু ডলার গ্রাহকরা হাতে রেখে দেন। এসব কারণে খোলাবাজারে ও ব্যাংকে নগদ ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর দেশে যে রেমিট্যান্স আসে তার মধ্যে ৪০ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে। ৩০ শতাংশ হুন্ডি এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসে নগদ আকারে প্রবাসী বা তাদের নিকটজনের মাধ্যমে। গত অর্থবছরে ১৮২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এ হিসাবে নগদ আসার কথা প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার। কিন্তু করোনার কারণে এটি আসেনি। করোনার পরে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং ব্যাগেজ রুলের আওতায় স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দেওয়ায় নগদ ডলারের প্রবাহ কমে গেছে। এদিকে করোনার সংক্রমণ কমার পর বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে নগদ ডলারের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে সরবরাহ কমেছে। ফলে সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ ডলার মিলছে খুবই কম। মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে কম বেচাকেনা হচ্ছে। কেননা ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ দুই জায়গায় নগদ ডলারের দাম কম। কিন্তু খোলা বাজারে বেশি। ফলে অনেকে ডলার এনে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ডলার না পেয়ে খোলাবাজার থেকেই কিনছেন। সূত্র জানায়, রাজধানীর মতিঝিল জনতা ব্যাংক স্থানীয় কার্যালয়, দিলকুশা, পল্টন অগ্রণী ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার সামনে, গুলশানের বিভিন্ন জায়গায় খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা নগদ ডলার বেচাকেনা করেন। কিছু মানি এক্সচেঞ্জের আশপাশে নগদ ডলার বেচাকেনা হয়। খোলা বাজারের দর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, করোনার সময়ে ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম কম ছিল। করোনার পর খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের জুনে ব্যাংকে প্রতি ডলার নগদ বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা করে। খোলাবাজারে ছিল ৮৫ টাকা। ২০২১ সালের জুলাই থেকে খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ওই সময়ে ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দাম সমান হয়ে যায়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে খোলাবাজারে ডলারের দাম ব্যাংকের চেয়ে বেশি বেড়ে যায়। ওই সময় থেকে ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। মে মাসে ডলারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। ২৭ এপ্রিল কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৯২ টাকা করে। ৭ মে তা আরও বেড়ে ৯৮ টাকায় উঠে। ১০ মে খোলা বাজারে প্রথমবারের মতো ডলারের দাম ১০০ টাকায় উঠে। পরে তা আরও বেড়ে ১৯ মে ১০৪ টাকায় উঠে। ওই সময়ে সরকারের একাধিক সংস্থার হস্তক্ষেপে এর দাম আবার কমে ৯৬ টাকায় দাঁড়ায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ব্যাংকেও ডলারের দাম কমে যায়। জুনে এর দাম আবার বেড়ে ৯৭ টাকায় উঠে। জুলাই থেকে খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। ফলে দামও বাড়তে থাকে। ১৪ জুলাই দাম বেড়ে ৯৯ টাকায় উঠে। ১৭ জুলাই আবার ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২৪ জুলাই দাম আারও বেড়ে সর্বোচ্চ ১০৫ টাকায় উঠে। ২৫ জুলাই তা সামন্য কমে ১০৪ টাকা হয়। কিন্তু ১৬ জুলাই তা হঠাৎ করে এক লাফে ৮ টাকা বেড়ে ১১২ টাকায় উঠে। এদিন খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়লেও ব্যাংকে বাড়েনি। ফলে ব্যাংকে আগের দামেই ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। ব্যাংকে নগদ ডলার বেচাকেনা হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০২ টাকা দরে। সোমবার ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম আরও এক দফায় ২৫ পয়সা বেড়ে ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ডলারের দাম বেড়েছিল ৫০ পয়সা। তখন প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছিল ৯৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ওই সময়ে আন্তঃব্যাংকে ছিল ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা। এই দফা ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে এখন ব্যাংকগুলো রপ্তানি বিল কিনছে ৯৩ টাকা ৭৫ থেকে ৯০ পয়সা দরে। রেমিট্যান্স কিনছে ৯৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৯০ পয়সা দরে। এ খাতে ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যেও ব্যবধান গড়ে এক টাকা।

নিউজ ডেস্ক: খোলাবাজারে বা কার্ব মার্কেটে ডলারের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এর বিপরীতে সরবরাহ বাড়েনি। ফলে ব্যাংকের মতো এখানেও (খোলাবাজার) ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে দাম বাড়ছে হু হু করে।

মঙ্গলবার খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১১২ টাকায় উঠেছে। আগের দিন প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে গড়ে ১০৪ টাকা করে। একদিনের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম সর্বোচ্চ ৮ টাকা বেড়েছে। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে এটিই রেকর্ড। আগে কখনও এত বেশি বাড়েনি।

সূত্র জানায়, দেশে বেশিরভাগ নগদ ডলার আসে প্রবাসী ও পর্যটকদের মাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়ে ফেরত আসার সময়ও অনেকের কাছে কিছু ডলার থাকে। সেগুলোও বাজারে আসে। করোনার সময় থেকে প্রবাসীদের দেশে আসা কমে গেছে।

একই সঙ্গে কমেছে পর্যটকদের সংখ্যাও। দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা যেমন কমেছে, তেমনি বিদেশ থেকে আসার সময় নগদ ডলার নিয়ে আসার প্রবণতাও কমেছে। ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম বেশি বলে এসব ডলারের বড় একটি অংশ কার্ব মার্কেটে বিক্রি হয়। তবে কিছু অংশ ব্যাংকেও বিক্রি হয়। আরও কিছু ডলার গ্রাহকরা হাতে রেখে দেন। এসব কারণে খোলাবাজারে ও ব্যাংকে নগদ ডলারের দাম বেড়েই চলেছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর দেশে যে রেমিট্যান্স আসে তার মধ্যে ৪০ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে। ৩০ শতাংশ হুন্ডি এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসে নগদ আকারে প্রবাসী বা তাদের নিকটজনের মাধ্যমে।

গত অর্থবছরে ১৮২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এ হিসাবে নগদ আসার কথা প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার। কিন্তু করোনার কারণে এটি আসেনি। করোনার পরে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং ব্যাগেজ রুলের আওতায় স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দেওয়ায় নগদ ডলারের প্রবাহ কমে গেছে। এদিকে করোনার সংক্রমণ কমার পর বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে নগদ ডলারের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে সরবরাহ কমেছে। ফলে সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ ডলার মিলছে খুবই কম। মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে কম বেচাকেনা হচ্ছে। কেননা ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ দুই জায়গায় নগদ ডলারের দাম কম। কিন্তু খোলা বাজারে বেশি। ফলে অনেকে ডলার এনে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ডলার না পেয়ে খোলাবাজার থেকেই কিনছেন।

সূত্র জানায়, রাজধানীর মতিঝিল জনতা ব্যাংক স্থানীয় কার্যালয়, দিলকুশা, পল্টন অগ্রণী ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার সামনে, গুলশানের বিভিন্ন জায়গায় খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা নগদ ডলার বেচাকেনা করেন। কিছু মানি এক্সচেঞ্জের আশপাশে নগদ ডলার বেচাকেনা হয়।

খোলা বাজারের দর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, করোনার সময়ে ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম কম ছিল। করোনার পর খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের জুনে ব্যাংকে প্রতি ডলার নগদ বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা করে। খোলাবাজারে ছিল ৮৫ টাকা।

২০২১ সালের জুলাই থেকে খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ওই সময়ে ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দাম সমান হয়ে যায়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে খোলাবাজারে ডলারের দাম ব্যাংকের চেয়ে বেশি বেড়ে যায়। ওই সময় থেকে ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। মে মাসে ডলারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। ২৭ এপ্রিল কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৯২ টাকা করে। ৭ মে তা আরও বেড়ে ৯৮ টাকায় উঠে। ১০ মে খোলা বাজারে প্রথমবারের মতো ডলারের দাম ১০০ টাকায় উঠে।

পরে তা আরও বেড়ে ১৯ মে ১০৪ টাকায় উঠে। ওই সময়ে সরকারের একাধিক সংস্থার হস্তক্ষেপে এর দাম আবার কমে ৯৬ টাকায় দাঁড়ায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ব্যাংকেও ডলারের দাম কমে যায়। জুনে এর দাম আবার বেড়ে ৯৭ টাকায় উঠে। জুলাই থেকে খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। ফলে দামও বাড়তে থাকে। ১৪ জুলাই দাম বেড়ে ৯৯ টাকায় উঠে। ১৭ জুলাই আবার ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২৪ জুলাই দাম আারও বেড়ে সর্বোচ্চ ১০৫ টাকায় উঠে।

২৫ জুলাই তা সামন্য কমে ১০৪ টাকা হয়। কিন্তু ১৬ জুলাই তা হঠাৎ করে এক লাফে ৮ টাকা বেড়ে ১১২ টাকায় উঠে। এদিন খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়লেও ব্যাংকে বাড়েনি। ফলে ব্যাংকে আগের দামেই ডলার বেচাকেনা হচ্ছে।

ব্যাংকে নগদ ডলার বেচাকেনা হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০২ টাকা দরে। সোমবার ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম আরও এক দফায় ২৫ পয়সা বেড়ে ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ডলারের দাম বেড়েছিল ৫০ পয়সা। তখন প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছিল ৯৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ওই সময়ে আন্তঃব্যাংকে ছিল ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা।

এই দফা ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে এখন ব্যাংকগুলো রপ্তানি বিল কিনছে ৯৩ টাকা ৭৫ থেকে ৯০ পয়সা দরে। রেমিট্যান্স কিনছে ৯৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৯০ পয়সা দরে। এ খাতে ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যেও ব্যবধান গড়ে এক টাকা।

সূত্র: যুগান্তর