জেসিসি বৈঠকের এজেন্ডায় গম আমদানি

7
ভারত থেকে গম আমদানি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশটি বাণিজ্যিকভাবে গম রফতানি বন্ধ করলেও প্রতিবেশী দেশের পক্ষ সরকারিভাবে অনুরোধ করলে তা বিবেচনা করবে। তাই ‘জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেসিসি)’ বৈঠকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা করবে। আগামী ৩০ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সপ্তম জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং ভারতের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। জেসিসি বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আজ শুক্রবার ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও দেশটির আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হবে। জেসিসি বৈঠকের আগে আজ ও কাল দুদিন আসামের গোয়াহাটিতে নদী সংক্রান্ত সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন যোগ দেবেন। দুদেশের দুটি গবেষণা সংস্থা-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডিজ এবং এশিয়ান কনফ্লোয়েন্স যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং ভারতে নিযুক্ত বিমসটেক দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও সম্মেলনে আমন্ত্রিত। গোয়াহাটিতে সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যেও সৌজন্য বৈঠক হবে। ২৯ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গোয়াহাটি থেকে দিল্লি যাবেন। জেসিসি বৈঠকে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ৩০ মে বৈঠকেও বাণিজ্য, পানি, জলবিদ্যুৎ, জ্বালানি, সীমান্তসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে নতুন এজেন্ডা খাদ্য নিরাপত্তা তথা ভারত থেকে গম আমদানির বিষয়ে গুরুত্বসহ আলোচনা হবে। ভারত সম্প্রতি গম রফতানি নিষিদ্ধ করলেও প্রতিবেশী দেশগুলো প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করতে পারবে বলে জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশ কী পরিমাণ গম আমদানি করতে চায় তার চাহিদা ভারতকে জানাবে। দিল্লির কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে আগামী ফসল খারাপ হতে পারে। তাই সতর্কতামূলক রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। বৈঠকে ভারতের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিশ্রুত ঋণের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে। ঢাকার একজন কর্মকর্তা বলেন, আট বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতির মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের মতো ছাড় হয়েছে। বাণিজ্য বিষয়ক প্রস্তাবিত সিপা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের ফরেন ট্রেড ইন্সস্টিটিউট এবং ভারতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। জেসিসি বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মিয়ানমার থেকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যে এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দান এক বড় বোঝার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহায়তা আবারও চাইতে পারে বাংলাদেশ। এছাড়া, সম্প্রতি কয়েকজন রোহিঙ্গা ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ নোট ভারবালে (কূটনৈতিক পত্র) ভারতের কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। এদিকে, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং জ্বালানিসচিব পৃথক সফরে ভারত যাচ্ছেন। ১ জুন ঢাকা ও জলপাইগুড়ির মধ্যে ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ নামে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনে রেলমন্ত্রী অংশ নেবেন। এছাড়া দুই দেশের জ্বালানিসচিব পর্যায়ের আলোচনায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং ভুটানে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ত্রিদেশীয় সহযোগিতার আওতায় সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষাসহ নতুন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় ঠাঁই পাবে বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সফরের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাইয়ে ভারত সফরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে এবারের জেসিসি বৈঠককে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে গম আমদানি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশটি বাণিজ্যিকভাবে গম রফতানি বন্ধ করলেও প্রতিবেশী দেশের পক্ষ সরকারিভাবে অনুরোধ করলে তা বিবেচনা করবে।

তাই ‘জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেসিসি)’ বৈঠকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা করবে।

আগামী ৩০ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সপ্তম জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং ভারতের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

জেসিসি বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আজ শুক্রবার ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও দেশটির আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হবে।

জেসিসি বৈঠকের আগে আজ ও কাল দুদিন আসামের গোয়াহাটিতে নদী সংক্রান্ত সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন যোগ দেবেন। দুদেশের দুটি গবেষণা সংস্থা-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডিজ এবং এশিয়ান কনফ্লোয়েন্স যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং ভারতে নিযুক্ত বিমসটেক দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও সম্মেলনে আমন্ত্রিত। গোয়াহাটিতে সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যেও সৌজন্য বৈঠক হবে।

২৯ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গোয়াহাটি থেকে দিল্লি যাবেন। জেসিসি বৈঠকে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ৩০ মে বৈঠকেও বাণিজ্য, পানি, জলবিদ্যুৎ, জ্বালানি, সীমান্তসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে নতুন এজেন্ডা খাদ্য নিরাপত্তা তথা ভারত থেকে গম আমদানির বিষয়ে গুরুত্বসহ আলোচনা হবে।

ভারত সম্প্রতি গম রফতানি নিষিদ্ধ করলেও প্রতিবেশী দেশগুলো প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করতে পারবে বলে জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশ কী পরিমাণ গম আমদানি করতে চায় তার চাহিদা ভারতকে জানাবে। দিল্লির কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে আগামী ফসল খারাপ হতে পারে। তাই সতর্কতামূলক রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে।

বৈঠকে ভারতের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিশ্রুত ঋণের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে। ঢাকার একজন কর্মকর্তা বলেন, আট বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতির মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের মতো ছাড় হয়েছে। বাণিজ্য বিষয়ক প্রস্তাবিত সিপা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের ফরেন ট্রেড ইন্সস্টিটিউট এবং ভারতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

জেসিসি বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মিয়ানমার থেকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যে এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দান এক বড় বোঝার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহায়তা আবারও চাইতে পারে বাংলাদেশ।

এছাড়া, সম্প্রতি কয়েকজন রোহিঙ্গা ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ নোট ভারবালে (কূটনৈতিক পত্র) ভারতের কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

এদিকে, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং জ্বালানিসচিব পৃথক সফরে ভারত যাচ্ছেন। ১ জুন ঢাকা ও জলপাইগুড়ির মধ্যে ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ নামে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনে রেলমন্ত্রী অংশ নেবেন। এছাড়া দুই দেশের জ্বালানিসচিব পর্যায়ের আলোচনায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং ভুটানে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ত্রিদেশীয় সহযোগিতার আওতায় সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষাসহ নতুন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় ঠাঁই পাবে বলে জানা গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সফরের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাইয়ে ভারত সফরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে এবারের জেসিসি বৈঠককে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর