ফেলে দেওয়া মোবাইল ফোনের স্বর্ণে কোটি টাকার ব্যবসা

17

নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই শতকে বিস্ময়ের শেষ নেই। যার একটি মোবাইল ফোন, যা মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অন্যমাত্রা যোগ করেছে বহু আগেই। নতুন খবর হলো দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নষ্ট হওয়া ও ফেলা দেওয়া মোবাইল ফোনও এখন অতিমূল্যবান। কেননা সব মোবাইল ফোনেই নাকি স্বর্ণ রয়েছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওপার বাংলার প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

বলা হচ্ছে, শুধু স্বর্ণই নয়, রুপা ও তামাও লাগে মোবাইল ফোন তৈরির ক্ষেত্রে। স্বর্ণ বিদ্যুতপরিবাহী। সেই সঙ্গে এর ক্ষয় হয় না, মরিচাও ধরে না। এ কারণে মোবাইল ফোনের ইন্টিগ্রেটেড সারকিট (আইসি) বোর্ডের ছোট্ট কানেক্টারগুলোতে স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়। এটা ঠিক যে খুবই সামান্য স্বর্ণ থাকে। কিন্তু অনেক বাতিল ফোন থেকে অনেক সামান্য মিলে বড় পরিমাণে স্বর্ণ সংগ্রহ হয়। আর তা দিতে চলে কোটি কোটি টাকার কারবার।

সাধারণ মোবাইল ফোন থেকে স্মার্টফোন বা আইফোন সব তৈরিতেই লাগে স্বর্ণ। তার পরিমাণ আলাদা আলাদা। হিসেব বলছে, এক একটি ফোনে ৩৪ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ থাকে। একটি ফোনের হিসেবে স্বর্ণের পরিমাণ সামান্যই। কিন্তু এখন যে হারে বর্জ্য মোবাইলের সংখ্যা বাড়ছে তাতে সংগৃহীত স্বর্ণের পরিমাণ অনেক। আবর্জনা থেকে স্বর্ণের মতো দামী ধাতু বের করার ব্যবসা চলছে রমরমিয়ে। সেখানে টন টন আবর্জনা থেকে এক গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়।

সেখানে একটি হিসেব বলছে, ৪১টি মোবাইল ফোন থেকেই ১ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। ভারতীয় মুদ্রায় এখন যার গড় মূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার রুপি। ওই হিসেবেই দেখা যায়, বিশ্বে সারা বছরে বাতিল মোবাইল ফোন থেকে চার হাজার কোটি রুপির স্বর্ণ পাওয়া যায়।

মোবাইল ফোনে স্বর্ণ ব্যবহারের প্রধান কারণ এই ধাতু ভাল বিদ্যুৎ পরিবাহী। স্বর্ণ ছাড়া আর দুই ধাতু বিদ্যুতের সুপরিবাহী। রুপা এবং তামা। ফোনে স্বর্ণের কানেকটরগুলো ডিজিটাল ডাটা দ্রুত এবং যথাযথ স্থানান্তর করার জন্যও ব্যবহৃত হয়। মোবাইল ফোনের মতো, স্বর্ণ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের আইসিগুলোতেও ব্যবহৃত হয়। আর এই ভাবেই বাতিল মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি দিয়ে চলে বড় আর্থিক অঙ্কের কারবার।

https://www.bd-pratidin.com/