বিশ্বে এক দিনে আরও ৯ হাজার মৃত্যু, বেড়েছে সংক্রমণ

0

নিউজ ডেস্ক: চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপরই রয়েছে রাশিয়া ও ব্রাজিল। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ কোটি ৭৭ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ হাজার ১৪১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ হাজার। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩২৮ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৬৭ হাজার ২২ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৭৭ লাখ ৯৭ হাজার ১৪ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৮৫৯ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৭১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭৫ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকোর নাম। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৮৯৭ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৩ হাজার ২১৭ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ১৮৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৯১২ জনের।

দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৭৯৪ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৯ হাজার ৫৯৪ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭২ লাখ ১৪ হাজার ৫২০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৫ জনের।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৩৭ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৪০৭ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ ৬৯ হাজার ১৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ২৭৭ জনের।

এদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১৮ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৪৯ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ৫২২ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩৭ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৪৫ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ৮১ হাজার ৩০৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৯ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৫৩ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ২১ জন। করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪০১ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২ জন মারা গেছেন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩২ জন, যুক্তরাজ্যে ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯ জন, ইতালিতে ৪৬ লাখ ২৩ হাজার ১৫৫ জন, তুরস্কে ৬৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮ জন, স্পেনে ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ৩২৪ জন এবং জার্মানিতে ৪১ লাখ ২৯ হাজার ১৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৯৪ জন, যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৫ জন, ইতালিতে এক লাখ ৩০ হাজার ১৬৭ জন, তুরস্কে ৬০ হাজার ৯০৩ জন, স্পেনে ৮৫ হাজার ৭৩৯ জন এবং জার্মানিতে ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

https://www.dhakapost.com/