বিশ্বে এক দিনে মৃত্যু ১০ হাজার, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো

2

নিউজ ডেস্ক: চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজারে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপরই রয়েছে ব্রাজিল ও রাশিয়া। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ কোটি ৭২ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৭২ হাজার।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ হাজার ১৬০ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৪০০। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৬ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৭২ লাখ ১৯ হাজার ৫২০ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৮ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ২৭০ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৯ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকোর নাম। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ১০৪৬ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১২ হাজার ৯২৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ২৮ হাজার ৯৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৫ জনের।

দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৭৯২ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ হাজার ৮৪১ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭১ লাখ ৯৪ হাজার ৯২৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪১ জনের।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৯৩ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৭৮০ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪০ জনের।

এদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৩২ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৩৬১ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৬৭ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৮ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৫২ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৭৩১ জন। করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৮১ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন মারা গেছেন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৬৯ লাখ ২৬ হাজার ৬০৪ জন, যুক্তরাজ্যে ৭৩ লাখ ১২ হাজার ৬৮৩ জন, ইতালিতে ৪৬ লাখ ১৮ হাজার ৪০ জন, তুরস্কে ৬৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯০ জন, স্পেনে ৪৯ লাখ ২২ হাজার ২৪৯ জন এবং জার্মানিতে ৪১ লাখ ১৭ হাজার ২৬৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ১৫ হাজার ৮২৯ জন, যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৭ জন, ইতালিতে এক লাখ ৩০ হাজার ১০০ জন, তুরস্কে ৬০ হাজার ৬৪১ জন, স্পেনে ৮৫ হাজার ৬৩৮ জন এবং জার্মানিতে ৯৩ হাজার ৩৯৭ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

https://www.dhakapost.com/