‘শাকিব খান তো অসচ্ছল শিল্পীদের কথা ভাবেন না’

3

নিউজ ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের জুনিয়র শিল্পীদের এবারের ঈদ অনেকটাই নিরানন্দের। এফিডিসিতে কোরবানি নিষিদ্ধ। তাই এফডিসি কেন্দ্রিক করবানির যে আমজেওটা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। করোনাকালীন কর্মহীন এই জুনিয়র শিল্পী ও কুশলীদের মনে যে আনন্দের সঞ্চারত হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। কেননা এফডিসির অভ্যন্তরে কোরবানি হচ্ছে না।

তবে ঈদের আগেরদিন রাতে এফডিসি এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রধান প্রুবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে গেটের বাইরে ৬ টি গরু রাখা রয়েছে। জিজ্ঞেস করতেই গরুগুলোকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানালেন এগুলো পরীমনির গরু। এফডিসির ভেতরে কোরবানি হচ্ছে না তাই বাইরে রাখা হয়েছে।

এফডিসিতে কোরবানি করতে দেওয়া হচ্ছে না এতে অনেক জুনিয়র শিল্পী ও কুশলীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। একজন নারী পার্শ্বশিল্পী বললেন, ‘আমরা কোরবানি হলে একটু বেশি মাংস খেতে পারি। এবার এমন করলো ক্যান? গতবার আমি অর্ধ কেজি মাংস পেয়েছি।’

হাফিজ উদ্দিন বাবু নামের একজন মেক আপআর্টিস্ট অনেকটাই ক্ষোভ নিয়ে বললেন, পরীমনিই কোরবানি দেয় আর বাকি বড় বড় যারা স্টার সুপারস্টার আছে তারা তো কোরবানি দিলো না। ফারুক সাহেব তো এমপি হয়ে গেছেন, তিনি তো শিল্পীদের জন্য কিছু করতে পারতেন। না হাফ কেজি এক কেজি মাংস সাবজেক্ট না। এফডিসিতে কোরবানি দেওয়ার একটা রীতি চালু হয়েছে। শুনেছি ডিপজল সাহেব কোরবানি দেবেন, শাপলা মিডিয়ার সেলিম সাহেব কোরবানি দেবেন। তাদের কোরবানি এখনো দেখলাম না।

বাবু মনে করেন যার কাছে শিল্পীরা আশা করে থাকবে সেই তিনিই কারো মুখের দিকে দেখেন না। তিনি বলেন, শাকিব খান তো সুপারস্টার, ঢাকা কলকাতা ছাড়িয়ে মুম্বাইয়ের সুপারস্টারও হয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি তো শিল্পীদের জন্য কখনো কোরবানি দিলেন না। কখনো এই অসচ্ছল শিল্পীদের কথা তিনি ভাবেনই না। কার কথা আর বলবো।

এবারে এফডিসিতে কোরবানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘এটা তো আমাদের কোনো সম্পত্তি নয়, সরকারি কেপিআইভুক্ত এরিয়া। সরকার যদি স্বাস্থ্যবিধির কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সহযোগিতা করব। তাছাড়া গত বছর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। মাংসের জন্য বাইরের লোকজন এসে ধাক্কাধাক্কি করে গেট ভেঙে ফেলার মতো অবস্থা করেছিল। করোনা ও এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রশাসন যদি মনে করে এখনে কোরবানি দেওয়া সঠিক নয়, আমাদের তা মেনে নেওয়াই উচিৎ হবে বলে মনে করি।’

অসচ্ছল শিল্পীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গত কয়েকটি ঈদুল আজহায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের অভ্যন্তরে (বিএফডিসি) পশু কোরবানি হয়েছে।

যেখানে আলোচিত নায়িকা পরীমনি, খল অভিনেতা ডিপজল অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উদ্যোগেও কোরবানি দেওয়া হয়েছে এফডিসিতে।

২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত একাধিক গরু কোরবানি দিয়ে আসছিলেন পরীমনি। পরে এতে শিল্পী সমিতিও যুক্ত হয়। এবার ৬টি গরু কোরবানি দেবেন বলে জানিয়েছেন পরীমণি। আর শিল্পী সমিতির উদ্যোগে কোরবানি দেওয়া হবে ৪টি গরু।

তবে এবার আর তা হচ্ছে না। করোনাভাইরাস মহামারির উচ্চসংক্রমণের কথা ভেবেই এবার বিএফডিসিতে পশু কোরবানি দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক (সিকিউরিটি ইনচার্জ) আমিনুল করিম খান।

https://www.kalerkantho.com/