৪০ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে বিয়ে!

2

নিউজ ডেস্ক: বিয়েপাগল জনপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ সীমান্ত এক আজব কাণ্ড করে বসেছেন। ফেসবুকে পরিচয় হওয়া নীলপরী নামের এক মেয়েকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে বিয়ে করেছেন। ফেসবুকে মেয়ের ছবি দেখে তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে যান যে, তাকে বিয়ে করতে তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন। মেয়েটিও আজব এক শর্ত দিয়ে বসেন, তাকে বিয়ে করতে হলে বরযাত্রী নিয়ে হেঁটে আসতে হবে।

মেয়েটি ভেবে ছিল এমন শর্তে রাশেদ সীমান্ত রাজি হবেন না। কিন্তু রাশেদ সীমান্তও নাছোড়বান্দা! তিনিও রাজি হয়ে যান। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাশেদ সীমান্ত বরযাত্রী নিয়ে ঠিকই হাজির হন মেয়ের বাড়িতে। এ অবস্থা দেখে বিপদে পড়ে যান মেয়েটি। ঘটে এক মহাবিপত্তি!

ঘটনাটি আসলে বাস্তবে নয়, নাটকে। নাটকের নাম ‘হাঁটা জামাই’। রাশেদ সীমান্ত ছাড়া এ নাটকে আরো অভিনয় করেছেন, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, মাহা, অলিউল হক রুমি, সাইকা আহমেদসহ অনেকে। রচনা ও পরিচালনায় রোমান রনি। ঈদ অনুষ্ঠানমালায় বৈশাখী টিভিতে ঈদের দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রচার হবে নাটকটি।
‘হাটা জামাই’সহ এবার ঈদেই সর্বাধিক ৪টি নাটকে অভিনয় করেছেন রাশেদ সীমান্ত। এর মধ্যে তিনটি একক এবং একটি ৭ পর্বের ধারাবাহিক। প্রতিটি নাটকই প্রচার হবে বৈশাখী টিভিতে।

ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রচার হবে একক নাটক ‘নয়ন তারা স্টোর’। মিলন ভট্ট’র রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন অহনা, রাশেদ সীমান্ত, নরেশ ভূইয়া প্রমুখ।

ঈদের তৃতীয় দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রচার হবে একক নাটক ‘ভাইয়ের সাথে একান্ত আলাপে’। তারিক মুহম্মদ হাসানের রচনা ও পরিচালনায় এ নাটকটিতে অভিনয় করেছেন রাশেদ সীমান্ত, মৌসুমী মৌ, মুকিত জাকারিয়া, কচি খন্দকার, আনোয়ারা প্রমুখ।

প্রতিদিন রাত সাড়ে ১০টায় প্রচার হবে রাশেদ সীমান্ত অভিনীত একমাত্র ধারাবাহিক ‘প্রবাসী টাকার মেশিন’ । তিনি ছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, তানজিকা আমিন, ডা. এজাজ, শেলী আহসান প্রমুখ। গল্প টিপু আলম মিলন, চিত্রনাট্যে ইউসুফ আলী খোকন, পরিচালনা আল হাজেন।
রাশেদ সীমান্ত বলেন, নাটকের গল্পগুলো অসাধারণ, আছে চরিত্রের বৈপরীত্য। সব মিলিয়ে ঈদের এ নাটকগুলোতে কাজ করে অনেক ভালো লেগেছে আমার। আমার যারা দর্শক, তাদেরও নাটকগুলো দেখে ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।

গত ঈদুল ফিতরে টিপু আলম মিলনের গল্পে, সরদার রোকনের পরিচালনায় রাশেদ সীমান্ত নাদিয়া অভিনীত ‘হিল্লা বিয়ে’ নাটকটি ইফটিউব ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে অবস্থান করে। আপ করার সপ্তাহখানেকের মাথায় এ নাটকের ভিউ ছিল ৫০ লাখ, যা এর আগে । অন্য কোনো নাটকের ক্ষেত্রে তেমনটি দেখা যায়নি।
সৌখিন অভিনেতা রাশেদ সীমান্ত পেশাগত জীবনে বৈশাখী টেলিভিশনের মার্কেটিং ইনচার্জ। দেশ-বিদেশের আপামর বাঙালি দর্শকদের ভালোবাসার কারণেই আজ তিনি একজন জনপ্রিয় অভিনেতার পরিচয় পেয়েছেন। যে কারণে তার অভিনয়ের প্রশংসা এখন হাটে-মাঠে-ঘাটে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

‘হাটা জামাই’ নাটকের গল্প নিয়ে বলতে বললে রাশেদ সীমান্ত বলেন, সোলেমান ফেসবুকে নীলপরী নামে একজনের প্রেমে পড়ে। ফেরদৌস চেয়ারম্যানের মেয়ে সুমি নীলপরী, শিশির বিন্দু, ঝরাপাতা এই সমস্ত নাম দিয়ে বিভিন্ন ফেইক আইডি ব্যবহার করে এবং দেশে বিদেশে থাকা বিভিন্ন মানুষের সাথে মজা করে। সোলেমানের সাথে সুমি নীলপরী নামক ফেসবুক আইডি থেকে সবসময় ম্যাসেঞ্জারে চ্যাটিং এবং কথা বলেন। সুমি যাদের সাথে ফেসবুকে কথা বলেন তাদেরকে শর্ত দেন তাকে কখনোই ভিডিও কল দেওয়া যাবে না। সোলেমান অনেক অনুরোধ করার পর সুমি তার পরিবর্তে তাদের বাড়িতে আশ্রিত তার দূর সম্পর্কের ফুফাতো বোন আফসানার ছবি দেন। সেই ছবি নীলপরীর তথা সুমির ভেবে তাকে বিয়ে করার জন্য উঠেপড়ে লাগে সোলেমান। কেউ যদি সুমিকে বিয়ে করতে অতি আগ্রহ দেখায় তখন সুমি এমন কঠিন কঠিন শর্ত দেয় যাতে করে অপরপ্রান্তে থাকা মানুষটি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় সোলেমান যখন সুমিকে বিয়ের কথা জানায় সুমি তাকে জানায়, সে সোলেমানকে বিয়ে করতে রাজী তবে শর্ত হচ্ছে বরযাত্রী সবাইকে হেটে আসতে হবে। সোলেমান চিন্তায় পড়ে যায়। চল্লিশ কিলোমিটার কিভাবে সে বাচ্চা, মহিলা, বয়স্কদের নিয়ে হেটে যাবে? তারপরও সে রাজী হয়। ব্যান্ডপার্টি, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে হেটে শুরু হয় বরযাত্রা। দীর্ঘপথ হাটার কারণেই সবার কাছে হাটা জামাই হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি। কনের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে পথিমধ্যে ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। নানা হাস্যরস আর কাণ্ডকারখানা নিয়ে এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনি।