লকডাউনে মেয়ে সেজে বের হয়ে ধরা খেলো যুবক

3

নিউজ ডেস্ক: মেয়ে সেজে যেভাবে লকডাউন দেখতে ধরা খেয়েছেন যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর গাবতলী এলাকার একটি চেকপোস্টে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বোরকা পরে রয়েছেন। পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। অবিকল মেয়ের অবয়ব নেওয়া ওই যুবক প্রথমে হিজাব খোলেন। এরপর একে একে সব কাপড় খোলেন পুলিশের নির্দেশে। হিজাব খোলার পর চেহারা স্পষ্ট হয় তিনি আসলে মেয়ে নন, ছেলে।

জানা গেছে, পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য এই বেশ গ্রহণ করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গাবতলীতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খান। যুবকের এই কাণ্ড দেখে পুলিশ হতবাক, কেন কী কারণে এই বেশ ধারণ করেছেন সেটা জানার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে জানা যায় নি। তবে ভিডিওতে তার পুরো শরীর তল্লাশী করতে দেখা যায় পুলিশকে।

এদিকে চলমান বিধিনিষেধে রাজধানীর ৩৩টি থানা থেকে গ্রেফতারকৃতদের একযোগে আদালতের গারদখানায় নেওয়া হয়। সেখানে তাদের গাদাগাদি করে রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বিষয়টি নজরে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে পুলিশ প্রশাসন ও সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন।

অপরদিকে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের বিস্তারে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশে চলমান লকডাউনের পরিবর্তে কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এনসিডিসি পরিচালক ও অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

এর আগে ডেল্টা ধরনের বিস্তারে দেশে কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি দুই সপ্তাহের শাটডাউনের (সব বন্ধ) সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য সরকার সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

দেওয়া হয় ২১টি নির্দেশনা। এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্যসব অফিস-আদালত বন্ধ, যান্ত্রিক যানবাহনে যাত্রী বহনও নিষিদ্ধ। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা আছে শিল্পকারখানা এবং সীমিত আকারে খোলা আছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠে আছে সশস্ত্রবাহিনী। জনসাধারণকে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। রাস্তায় বেরিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে করা হচ্ছে গ্রেফতার জরিমানা।