কানাডায় হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি অমুসলিমদের সংহতি

1

নিউজ ডেস্ক: কানাডায় ইসলামফোবিয়া রোধে এবার মুসলিম-অমুসলিম সব ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে হিজাব পরিধান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার (১৮ ‍জুন) বিকেলে ভিক্টোরিয়া পার্কে লন্ডন শহরের অধিবাসীরা তাতে অংশ নেন।

গত ৬ জুন লন্ডনের অন্টারিও শহরে ট্রাকচাপায় এক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনার পর মানুষের মধ্যে হিজাবের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি ও ইসলামভীতি প্রতিরোধে ‘দ্য হিজাবস ফর হারমোনি’ ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। এতে লন্ডন শহরের এক শতাধিক মুসলিম ও অমুসলিম নারীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজনটি কানাডায় ইসলামফোবিয়া ইস্যু সমাধানে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি সমাবেশের একটি অংশ ছিল। দ্য মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার (এমএসি) পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে বক্তব্য প্রদান করেন।

এমএসির সদস্য রিম সুলতান জানান, ‘যে সময় অসংখ্য নারী স্কার্ফ পরে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছিল; কারণ তারা ছিল দৃশ্যমান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। এখন তাদের সমর্থনের এই দৃশ্য তাদের পছন্দ বেছে নিয়ে অবিরাম চলতে উৎসাহিত করবে।’

তিনি আরো জানান, ‘লন্ডনের হামলার ঘটনার পর আমার পরিবার প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন যে তাদেরকে এ দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। কারণ হিজাব পরিধান করায় তাদেকে মুসলিম হিসেবে দেখায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ আমার অন্যান্য নারীদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা ভয় বা  ইসলামভীতির হামলার কাছে জিম্মি হতে পারি না।’

দ্য মুসলিম এসোসিয়েশন অব কানাডা (এমএসি)-এর সহায়তায় লন্ডনের অধিবাসী বারবারা লিগেট ইভেন্টটি আয়োজন করেছিলেন। একজন অমুসলিম হয়েও ইভেন্টটির আয়োজন করেন তিনি। এক বক্তব্যে তিনি জানান, ‘মুসলিম নারী ও কুমিউনিটির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ নারীরাই অনেক সময় এসব সহিংসতার শিকার হন। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনার পর ‘দ্য হেডস্কার্ভস ফর হারমোনি ইভেন্টে’ দেখে এ ধরনের ইভেন্টে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা তৈরি হয়। কারণ সেখানে সংহতি প্রকাশ করে অনেক অমুসলিম নারীরাও হিজাব পরেছিল।’

গত রবিবার (৬ জুন) কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে ট্রাকচাপা দিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়। পরিবারের ৯ বছরের একটি শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হত্যা ঘটনার অভিযোগে নাথানিয়েল ভেল্টম্যান (২০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে এবং তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১২ জুন লন্ডনের ইসলামিক সেন্টার অব সাউথওয়েস্টে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়।

সূত্র : গ্লোবাল নিউজ।