ব্যক্তিগত রোষে রায়হানকে হত্যা করেন এসআই

0
6

নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে মারা যান আখালিয়ার যুবক রায়হান। গত ১১ অক্টোবর দিবাগত রাত তিনটায় তাকে এ ফাঁড়িতে ধরে এনে ভোর ছয়টা পর্যন্ত চালানো হয় নির্যাতন। নির্যাতনের ফাঁকে রায়হানের হাতে একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়। রায়হান সেই ফোনে পরিবারের কাছে কল করে জানান, ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে এসে যেন তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এ তথ্য পেয়ে পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে

হাজির হলেও রায়হানের সঙ্গে তাদের দেখাই করতে দেওয়া হয়নি, নেওয়া হয়নি দাবিকৃত টাকাও। পরে জানানো হয়, গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। এসব কারণে প্রশ্ন জেগেছে, শুধু কি ১০ হাজার টাকা আদায় করতেই রায়হানের ওপর নির্যাতন চালান এসআই আকবরসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা? এ প্রশ্নে একাধিক সূত্র বলছে, নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে ইউটিউবের একটি চ্যানেলের নাট্যাভিনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন এসআই আকবর। তারা যে বাড়িতে নিষিদ্ধ আড্ডা দিতেন, নিহত যুবক রায়হানদের বাড়ি সেই বাড়িটির অদূরেই অবস্থিত। রায়হান ওই বাড়িতে চলা অপকর্ম ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরোধী ছিলেন। এটি খেপিয়ে তোলে এসআই আকবরকে। তাই রাতে রায়হানকে হাতের নাগালে পেয়ে তাকে আটক করে গায়ের ঝাল মেটান আকবর। তার আক্রোশী নির্যাতনের কারণেই মারা গেছেন রায়হান।

এদিকে গতকাল বেলা ২টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহত রায়হানের লাশ কবর থেকে তুলে আবার ময়নাতদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন ।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশ থেকে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তের অংশ হিসেবে খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গতকাল দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করে। সন্ধ্যায় তারা নিহতের বাড়িতে যান এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

ফাঁড়ি পরিদর্শনের পর পিবিআইয়ের এই পুলিশ সুপার জানান, পর্যবেক্ষণে কিছু আলামত মিলেছে। তদন্তকালে এ ঘটনায় যাদের জড়িত পাওয়া যাবে মামলায় তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here