ওয়ালটনের আর্থিক রিপোর্ট পুনঃনিরীক্ষার দাবি

0
6

নিউজ ডেস্ক: শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কাছ থেকেই ওয়ালটনের আর্থিক প্রতিবেদন পুনঃনিরীক্ষার দাবি উঠেছে। তারা বলছেন, শেয়ারবাজারে তামাশা সৃষ্টি করছে এই কোম্পানিটি। যেখানে প্রতিবেদন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম পেতেই এ কাজ করা হয়েছে। কারণ মাত্র ৯ কার্যদিবসেই ৩০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির দাম সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এতে কোম্পানির মালিক পক্ষ ব্যাপক লাভবান হলেও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিতে পড়বেন। কারণ কোম্পানির উদ্যোক্তারা চাইলে ৭০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিতে পারে। ফলে ভালো একটি অডিট ফার্ম দিয়ে কোম্পানিটির আর্থিক স্থিতিপত্র পুনঃনিরীক্ষা করলে প্রকৃত চেহারা বের হয়ে আসবে। এতে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে।

পাশাপাশি এটা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে। এদিকে ওয়ালটন নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কারণ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার নিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে বিএসইসিকে। এমনকি অর্থমন্ত্রীসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ওয়ালটনের তালিকাভুক্তি বাজারে ভুল বার্তা দিয়েছে।

তার মতে, এটি এক ধরনের বিকৃতি। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক, অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীরাও ওয়ালটনের তালিকাভুক্তি নিয়ে সমালোচনা করছে। যা বিএসইসির জন্য বিব্রতকর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। এ ব্যাপারে সহজ সমাধানের পথ খুঁজছি।

তিনি বলেন, আমরা বুঝতেছিলাম ওয়ালটন নিয়ে কিছুটা হইচই হবে। তবে এই অবস্থা তৈরি হবে, তা কারও ভাবনায় ছিল না। তিনি বলেন, তিন বছর পর উদ্যোক্তাদের শেয়ারের ওপর থেকে লকইন (বিক্রি নিষেধাজ্ঞা) উঠে যাবে। তখন হয়তো উদ্যোক্তা সুযোগ নিতে চাইবে। তবে এটি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার রাতে বিএসইসি আয়োজিত ওয়েভিনারে অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সালমান এফ রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ালটন বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ শেয়ার ছাড়া হয়েছে। বাকি ৯৯ শতাংশই উদ্যোক্তাদের কাছে। এর ফলে ওয়ালটন বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজার মূলধনের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত (কনফিউজড)। কারণ এটি এক ধরনের বিকৃতি (ডিস্টরশন)।

বাজার মূলধন বাড়ানোর জন্য আপনারা (বিএসইসি) এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন কিনা আমি জানি না। তবে এটি বাজারে ভুল বার্তা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি জানতে চাই এর উদ্দেশ্য কী? (আই ওয়ান্ট টু নো, ওয়াট ইজ ইওর অপজেক্টিভ)।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বাজারের ব্যাপারে পলিসি অবশ্যই সুসংহত হওয়া উচিত। কারণ অনেক কোম্পানি আমাকে বলেছে, আমরা জানতাম বাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ৫০ শতাংশ শেয়ার বিনিয়োগকারীদের দিতে হয়।

এক্ষেত্রে ১ থেকে ২ শতাংশ কিংবা ৫ শতাংশ দিয়েও তালিকাভুক্ত হতে পারলে, তারা বাজারে আসত’। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, কী ধরনের কৌশল বা কী চিন্তা করে ১ শতাংশ শেয়ার দিয়ে তালিকাভুক্ত করা হল তা পরিষ্কার নয়। এটি বাজারে ভুল সংকেত দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here