বিটিআরসির বিধিনিষেধ ঠেকাতে আদালতে গেল গ্রামীণফোন

18

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আরোপ করা বিধিনিষেধ ঠেকাতে আদালতে গেল মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। বিটিআরসি ২১ জুন গ্রামীণফোনের ওপর দুটি বিধিনিষেধ জারি করে। তা ঠেকাতে রোববার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে গ্রামীণফোন। আদালতসূত্রে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী বা এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনকে দুটি বিধিনিষেধ দিয়েছিল বিটিআরসি। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে গ্রামীণফোন আগাম অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের নতুন সেবা, অফার বা প্যাকেজ দিতে পারবে না। এখনকার অফার অথবা প্যাকেজও আবার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

এ ছাড়া নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে ‘লকিং পিরিয়ড’ হবে ৬০ দিন। অন্যদের ক্ষেত্রে যা ৯০ দিন। এর মানে হলো, গ্রামীণফোন সহজে ছাড়া যাবে।

বিটিআরসি গ্রামীণফোনের ওপর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালার (২০১৮) অধীনে। এর আওতায় সংস্থাটি গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী (এসএমপি) অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করে।

কোনো মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসংখ্যা, রাজস্ব অথবা তরঙ্গ—এ তিন ক্ষেত্রের একটিতে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যাধারী হলে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা যায়। গ্রামীণফোন গ্রাহকসংখ্যা ও অর্জিত বার্ষিক রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যাধারী।

বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণার পর গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি চারটি বিধিনিষেধ জারি করে। বিধিনিষেধগুলো ছিল মাসিক কলড্রপের সীমা ২ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা, দেশজুড়ে কোনো প্রচার বা মার্কেট কমিউনিকেশন না করা, এমএনপির (নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল) ‘লক ইন পিরিয়ড’ ৩০ দিনে কমিয়ে আনা ও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একক বা স্বতন্ত্র চুক্তি না করা। পরে আবার এসব বিধিনিষেধ তুলেও নেওয়া হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

আরও একবার বিষয়টি আদালতে গড়াল। অবশ্য আজ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে গ্রামীণফোনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাজারের বড় অপারেটরের প্রতিযোগিতা বিরুদ্ধ আচরণ ঠেকিয়ে বাকি অপারেটরগুলোকে সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন দেশে কোনো অপারেটরকে এসএমপি হিসেবে ঘোষণার নজির রয়েছে।