জাতীয়

সারা বি‌শ্বে স্মলপক্সের টিকা জোরদার না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বে‌শি। একইসঙ্গে স্মলপক্স টিকার বাইরে থাকাদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি ১০ থেকে ৪০ শতাংশ বলেও এক গবেষণায় বলা হয়েছে। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সংগৃহীত বিভিন্ন দেশের মাঙ্কিপক্সের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে করা এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘মাঙ্কিপক্স প্যানিক অর রিয়েল থ্রেট’ শীর্ষক এক বিজ্ঞানবিষয়ক সেমিনারে গবেষণার প্রবন্ধ তুলে ধরেন একই বিভাগের চিকিৎসক তানজিদা রুবায়েত। গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তিকে তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। আক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গের ৯৫ ভাগই থাকে মুখে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া বেশি কাজ করায় তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে যায়। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. টিটু মিয়া বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে এটি ছড়ালেও আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে। আইইডিসিআর শনাক্তকরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি গাইডলাইন রয়েছে। যেহেতু এখনো আমাদের দেশে মাঙ্কিপক্স আসেনি, তাই নিজস্ব গাইডলাইন আপাতত ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেহেতু এটা তরুণ ও শিশুদের মধ্যে বেশি ছড়ায়, তাই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুলতানা শাহানা বানু বলেন, মূলত ট্রপিক্যাল দেশগুলোতে বেশি ছড়ায়। বলা হচ্ছে সমকামীরাই এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি অনেকটা একপেশে ধারণা। অন্যরাও সংক্রমিত হচ্ছেন। করোনায় যেভাবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি, একইভাবে এটি প্রতিরোধেও মানতে হবে। এখন পর্যন্ত স্মলপক্স ভ্যাকসিনই এটির কার্যকর উপাদান।

মাঙ্কিপক্সের বেশি ঝুঁকিতে তরুণরা: গবেষণা

0
নিউজ ডেস্ক: সারা বি‌শ্বে স্মলপক্সের টিকা জোরদার না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বে‌শি। একইসঙ্গে স্মলপক্স টিকার বাইরে থাকাদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি ১০ থেকে...

দেশজুড়ে

গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক রেলস্টেশনের সামনে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এর পর থেকে বন্ধ ছিল ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ। পরে রাত ২টায় শুরু হয় উদ্ধার কার্যক্রম। পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। খবর পাওয়ার পর ঢাকা ডিভিশন থেকে রিলিফ ট্রেন কল করা হয়েছিল এর পর আমরা পাকশি থেকে রেলওয়ে কর্মকর্তা এসেছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মৌচাক রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হয়েছে।

১২ ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

0
নিউজ ডেস্ক: গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক রেলস্টেশনের সামনে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক...

পুরো বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রাইমারি স্কুলে বন্দুক হামলায় ২১ জনের প্রানহাণির দুদিন পর কানাডার একটি স্কুলের সামনে রাইফেল হাতে এক যুবককে দেখামাত্র গুলি করেছে পুলিশ। কানাডার বৃহৎ শহর টরোন্টোতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। খবর সিবিসি ও আরব নিউজের। টরোন্টোর পুলিশপ্রধান জেমস র‌্যামার জানান, গুলিবিদ্ধ ২০ বছর বয়সি ওই যুবক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ দেখে বন্দুক তাক করায় তাকে গুলি করতে বাধ্য হয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন দেশে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কানাডায় বিশেষ শতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

কানাডায় স্কুলের সামনে রাইফেল হাতে যুবককে দেখামাত্র পুলিশের গুলি

0
নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রাইমারি স্কুলে বন্দুক হামলায় ২১ জনের প্রানহাণির দুদিন পর কানাডার একটি স্কুলের সামনে রাইফেল হাতে এক যুবককে দেখামাত্র গুলি করেছে পুলিশ। কানাডার...

খেলার মাঠে

শ্রীলংকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে বাজে খেলে হেরেছে টাইগাররা।আগামী মাসে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। তার আগে ক্রিকেটাররা ছুটি পেয়েছেন। সুযোগ পেয়ে বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। কে কোথায় যাচ্ছেন? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ছুটিটা উপভোগ করতে দুবাইয়ে চলে গেছেন তামিম ইকবাল। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকালের ফ্লাইটে দুবাই যান তিনি। সাকিবের ছুটি মানেই আমেরিকা। যেখানে স্ত্রী-সন্তানরা আছেন তার। তবে তার আগে সিঙ্গাপুরে গেছেন সাকিব। শুক্রবার রাত ১১টার ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন তিনি। সেখানে কাজ সেরে সোজা যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমাবেন এ অলরাউন্ডার। শুধু সাকিবই নয়; এবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানও। ঢাকা টেস্টে দেড় লাখ জরিমানা গুণলেও পয়সা খরচে আপত্তি নেই স্পিনার তাইজুল ইসলামের। ছুটিটা উপভোগ করতে থাইল্যান্ডকে বেছে নিয়েছেন তিনি। ২৯ মে ব্যাংককের পথে উড়াল দেবেন টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য। পরদিন সোহান যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। এদিকে জানা গেছে, সাকিবের সিঙ্গাপুর সফর অবশ্য ছুটিতে ভ্রমণের অংশ নয়; বিসিবির তত্ত্বাবধানেই পুরো শরীরের রেগুলার চেকআপ করতে সেখানে গেছেন তিনি। এদিকে আগেই জানা, হজের উদ্দেশ্যে সৌদিআরব যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। অন্য ক্রিকেটাররাও ছুটির সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চলে গেছেন বাড়িতে। ক্রিকেটারদের দেশছাড়ার হিড়িকে বাংলাদেশে বসে থেকে লাভ দেখছেন বিদেশি কোচিং স্টাফরা। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ও পেস-বোলিঙ কোচ অ্যালান ডোনাল্ড ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রসঙ্গত, ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথ ধরবে টাইগাররা। আগামী ৩, ৫ ও ৬ জুন তিন বহরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় দল। যেখানে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলবে টাইগাররা। প্রায় দেড় মাসের সফর শেষ হবে আগামী ১৬ জুলাই।

বিদেশ ভ্রমণে টাইগাররা, কে যাচ্ছেন কোন দেশে?

0
নিউজ ডেস্ক: শ্রীলংকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে বাজে খেলে হেরেছে টাইগাররা।আগামী মাসে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। তার আগে ক্রিকেটাররা ছুটি পেয়েছেন।  সুযোগ পেয়ে বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে...
শ্রীলংকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট ১০ উইকেটে শোচনীয় হারের হতাশায় গ্যালারির দর্শকরা বেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকরা ছিলেন অধীর অপেক্ষায়। কারণ কথা বলবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। অবশেষে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা পর এলেন তিনি। খেলোয়াড়দের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা নিয়ে এদিন বাংলাদেশ দলের কোচদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিসিবি সভাপতি। যদিও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল অধিনায়ক মুমিনুল হকের ফর্ম ও অধিনায়কত্ব। মুমিনুলকে নিয়ে কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে কিনা বোর্ড—সে বিষয়ে জানার কৌতুহল ছিল সাংবাদিকদের। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি জানালেন, না, এখনই কড়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই আপাতত। তবে মুমিনুলের ব্যাটিংয়ের সমস্যা নিয়েই যত ভাবনা। নাজমুল হোসেন পাপন বলেন, ‘মুমিনুলের নেতৃত্ব নিয়ে যে আমরা খুব বেশি চিন্তিত, তা নয়। সমস্যাটা হচ্ছে ওর ব্যাটিং নিয়ে, রান পাচ্ছে না। এটা চিন্তার ব্যাপার। অধিনায়ক যখন পারফর্ম করে না, তখন সে কতটা চাপে থাকে, ভেবে দেখুন। মানসিক চাপটা কী। আমরা এখন এটাই আশা করতে পারি যে, ও শিগগিরই রানে ফিরবে।’ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মুমিনুলের সঙ্গে কথাও হয়েছে বলে জানালেন পাপন। বললেন, ‘আজ ওর সঙ্গে একটু হালকা আলোচনায় বসেছি। সামনে আরও বসব, কাল-পরশু ওর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসব। দেখি আলোচনা করে ও কী মনে করে। আমরা ওর সমস্যা খুঁজে বের করব। আমরা এখন শুধু আশা করতে পারি যে ও তাড়াতাড়ি রানে ফিরুক।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে অফফর্মে মুমিনুল। শ্রীলংকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। আগের ইনিংসে করেন মাত্র ৯ রান। ফলে সর্বশেষ ১০ ইনিংসে তার সংগ্রহ দাঁড়াল ৭৪, যার গড় মাত্র ৮.২। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল। এরপরই বাংলাদেশ দলপতির বাজে ফর্মের শুরু। বাকি ৯ ইনিংসের মধ্যে তিনবারই শূন্য রানে আউট হলেন তিনি। অন্য ৬ ইনিংসে তার সংগ্রহ - ৩৭, ২, ৬, ৫, ২ ও ৯। এমন বাজে ফর্মের কারণে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের চেয়ে ব্যাটিং গড় কমে গেছে টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুলের। এমন সব পরিসংখ্যান দেখেও নিজের ব্যাটিং নিয়ে উদ্বিগ্ন নন; এমনটাই বারবার বলেছেন মুমিনুল।

মুমিনুলের ফর্ম ও অধিনায়কত্ব নিয়ে যা বললেন পাপন

0
নিউজ ডেস্ক: শ্রীলংকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট ১০ উইকেটে শোচনীয় হারের হতাশায় গ্যালারির দর্শকরা বেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকরা ছিলেন অধীর অপেক্ষায়। কারণ কথা বলবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি...
জস বাটলারের ঝড়ো শতকে আইপিএলের ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালস (১৬১/৩)। শুক্রবার আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান সাত উইকেটে হারিয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (১৫৭/৮)। ছয় মেরে রাজস্থানকে জয় এনে দেন ইংলিশ ব্যাটার বাটলার। মাত্র ৬০ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ১০টি চার ও ছয়টি ছয়। একই ভেন্যুতে রোববার ফাইনালে রাজস্থান মুখোমুখি হবে গুজরাট টাইটানসের। আইপিএলের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই প্রথম ফাইনালে খেলবে রাজস্থান। এরআগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৫৭ রান করে আট উইকেটে। একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি রজত পাতিদারের। ৪২ বলে ৫৮ রান করেন তিনি চারটি চার ও তিনটি ছয়ের সহায়তায়। ২৫ রান আসে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির ব্যাট থেকে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল করেন ১৩ বলে ২৪ রান। আবারও ব্যর্থ বিরাট কোহলি। মাত্র সাত রান করে আউট হয়েছেন তিনি।

বাটলারের ঝড়ো শতকে ফাইনালে রাজস্থান

0
নিউজ ডেস্ক: জস বাটলারের ঝড়ো শতকে আইপিএলের ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালস (১৬১/৩)। শুক্রবার আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান সাত উইকেটে হারিয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (১৫৭/৮)। ছয় মেরে...
২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজয় হয়েছিল লিভারপুলের। সেই দলে যুক্ত ছিলেন লিভারপুলের সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহ। রিয়ালের কাছে হারার দুঃখ ভুলতে চাই সালাহ। দীর্ঘ চার বছর পর আবারও সেই ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এবার তার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায়। সেবার রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩-১ এ হারে লিভারপুল। ওই ফাইনাল ম্যাচে রিয়ালের সার্জিও ব়্যামোসের কড়া ট্যাকলে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল সালাহ। কতটা অসহায় হয়ে সেদিন মাঠ ছেড়েছিলেন সালাহ সে কথা আজও ভোলেনি লিভারপুল সমর্থকরা। দীর্ঘ চার বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদ। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। এবার রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে দুঃসহ আর যন্ত্রণা ভুলতে চায় সালাহ। ভুলতে চায় লিভারপুলও। মোহামেদ সালাহ বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলতে চাই। চার বছর আগে তাদের কাছেই ফাইনালে হেরেছিলাম। তাই আমি চাইছি, তাদেরকে হারিয়েই এবার খেতাব জিততে। তাহলেই সেটা মধুর প্রতিশোধ হবে। ফাইনালে হারের পাশাপাশি মাঝ পথে মাঠ ছাড়ার যন্ত্রণা আজও ভোগায় তাকে। সালাহ বলেন, সেইবার ৩০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। ওটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত। সেদিন আমার মন ভেঙে গিয়েছিল। আমি হাসপাতালে থেকে দলের রেজাল্ট জেনেছিলাম। আমরা ওই ম্যাচটা হারতাম না। ওই খবরটা শোনার পর বিশ্বাস করতে পারিনি।

রিয়ালকে হারিয়ে যে দুঃখ ভুলতে চায় সালাহ

0
নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজয় হয়েছিল লিভারপুলের। সেই দলে যুক্ত ছিলেন লিভারপুলের সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহ। রিয়ালের কাছে হারার দুঃখ...
চতুর্থ দিন বিকালে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের ডঙ্কা বাজছিল বাংলাদেশ শিবিরে। যদিও মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস ছিলেন আশার প্রদীপ হয়ে। কিন্তু পঞ্চম ও শেষ দিনে শুরুতেই ২৩ রানে বিদায় নিয়ে সেই আশার প্রদীপের আলোকে প্রায় নিভিয়ে দেন মুশফিক। ৫৩ রানে ৫ উইকেট হাওয়া। না যেন ইনিংস পরাজয় দেখতে হয়! এমন বিপর্যয়ের মুখে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন লিটন দাস। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের দারুণ এক জুটিতে ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে লিড নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু হাফসেঞ্চুরির পরই যেন ফেরার তাড়ায় ছিলেন এ দুই ব্যাটার। ফিফটি করেই বিদায় নেন লিটন, এর পর সাজঘরে ফিরলেন সাকিবও। সকাল থেকেই লংকানদের দুই মূল বোলার রাজিথা ও আসিথার আক্রমণকে দারুণভাবে প্রতিহত করেন সাকিব-লিটন। অফস্টাম্পের বাইরের বল পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন দুজনে। অনেকটা ওয়ানডের গতিতে ফিফটি হাঁকিয়েছেন সাকিব। ৬১ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫২ রান জমা করেন সাকিব। যদিও ব্যক্তিগত সংগ্রহ সেভাবে বাড়িয়ে নিতে পারেননি। লাঞ্চবিরতির পর যোগ করতে পারেন মাত্র ৬ রান। আসিথা ফার্নান্দোর শরীর তাক করা বাউন্সার পুল করার চেষ্টায় দেরি করে ফেলেন সাকিব। বল তার গ্লাভসে ছোবল দিয়ে সহজ ক্যাচ উঠে যায় কিপার নিরোশান ডিকভেলার কাছে। এর আগে ৫২ রান করে ফিরে যান লিটন। নিজের বলে দুর্দান্ত ক্যাচে লিটন দাসকে বিদায় করে দিলেন আসিথা ফার্নান্দো। অফ স্টাম্পে পিচ করা লেংথ বল হালকা মুভ করে ঢোকে ভেতরে। লিটন সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করার চেষ্টায় ব্যাট হাঁকান। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি। সোজা চলে যায় বোলারের কাছে। ডান দিক ঝাঁপিয় অসাধারণ ক্ষীপ্রতায় এক হাতে বল জমান ফার্নান্দো। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ১৬৮। লিড মোটে ২৭ রানের। ব্যাট হাতে লড়াই করছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলাম।

লিটনের পর সাজঘরে সাকিবও

0
নিউজ ডেস্ক: চতুর্থ দিন বিকালে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের ডঙ্কা বাজছিল বাংলাদেশ শিবিরে। যদিও মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস ছিলেন আশার প্রদীপ হয়ে। কিন্তু...

বায়োস্কোপ

২০১৯ সালের ১১ মে। সেদিন সকালে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্ব কুমার বিশ্বজিতের আহ্বানে তার বাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের বরেণ্য অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। উপলক্ষ ছিল একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবেন, গল্প করবেন আর গোলাম সাব্বিরের ক্যামেরার ফ্রেমে ছবি তুলবেন। কারণ তাদের জন্মদিন একইদিনে। অর্থাৎ তাদের জন্মদিন ১ জুন। ১ জুন আসার আগেই তারা দুজন একসঙ্গে ক্যামেরার ফ্রেমে ছবি তুলেছিলেন। বেশকিছুটা সময় আড্ডা দেবার পর চঞ্চল চৌধুরী যথারীতি চলে যান শুটিংয়ে। কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, চঞ্চলের অভিনয় আমি দেখেছি। মনপুরায় তো চঞ্চল দুর্দান্ত ছিল। পরবর্তীতে আয়নাবাজিতেও চঞ্চল বাজিমাত করেছিল। এরই মধ্যে তার অভিনীত পাপ-পুণ্য মুক্তি পেয়েছে। শুনেছি এই সিনেমাতেও খুব ভালো অভিনয় করেছে। সময় করে হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আগ্রহ আছে। তবে চঞ্চলকে আমি ভীষণ পছন্দ করি। দারুণ অমায়িক একজন মানুষ। তার আচার ব্যবহারে সবসময়ই আমি মুগ্ধ হই। তার জন্য অগ্রিম জন্মদিনের শুভ কামনা রইল। চঞ্চল চৌধুরী বলেন, সেই ছোটবেলা থেকেই বিশ্ব দাদার গান শুনে আসছি। এখনো তার গান শোনা হয় অবসরে, কিংবা কাজের ফাঁকে ফাঁকে। দাদা আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্ব। আমাদের সঙ্গীতাঙ্গন যাদের পদচারণায় মুখরিত এখনো, দাদা তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। আমি তার গানের ভক্ত। তিনি আমাকে স্নেহ করেন, ভালোবাসেন- এটা ভীষণ ভালোলাগার। তার সঙ্গে কাটানো মুহুর্ত আমার কাছে মূল্যবান। দোয়া করি দাদা সবসময ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

যে কারণে এক হয়েছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ ও চঞ্চল

0
নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ সালের ১১ মে। সেদিন সকালে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্ব কুমার বিশ্বজিতের আহ্বানে তার বাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের বরেণ্য অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। উপলক্ষ ছিল একসঙ্গে...

ফিচার

থায়রয়েডজনিত সমস্যা বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে। শিশু-কিশোরেরাও এই সমস্যায় ভুগতে পারে। সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যায়ও সুস্থ থাকা যায়। শিশু-কিশোররা থায়রয়েড হরমোনের ঘাটতি (হাইপোথায়রয়েডিজম) এবং অতিরিক্ত পরিমাণে থায়রয়েড হরমোনের উপস্থিতি (হাইপারথায়রয়েডিজম)-এর যে কোনোটিতেই আক্রান্ত হতে পারে। হাইপোথায়রয়েডের উপসর্গ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম। লক্ষণ অস্থিরতা দেখা দেয়, মেজাজ খিটখিটে থাকে, বুক ধড়ফড় করে। হৃদস্পন্দন হার বেড়ে যায়। দুর্বল লাগে, যে কোনো কাজে অনিহা দেখা দেয়, শিশুরা খেলাধুলা করতে চায় না, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তা সত্ত্বেও হাত ঘামে, খিদে বেড়ে গেলেও ওজন কমতে থাকে, মেয়েদের মাসিকের সমস্যা হয়, ত্বক কালো হয়ে যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়, হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়, বেশি বয়সে অস্টিওপোরোসিস হতে পারে, চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসে, ঘন ঘন পায়খানা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না করলে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। * রোগ শনাক্তকরণ : হাইপারথায়রয়েডিজম শনাক্তকরণের জন্য প্রথমেই রোগীর শারীরিক লক্ষণগুলোকে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে নিম্নলিখিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষাগুলোর সাহায্য নেওয়া হয়। * থায়রয়েড হরমোন পরীক্ষা (FT4, TSH, FT3)। * থায়রয়েড এন্টিবডি (TRAb, Antithyroid Antibodies)। * থায়রয়েড আল্ট্রাসনোগ্রাম : এটি ক্রমশ খুব গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসাবে জায়গা করে নিচ্ছে। * থায়রয়েড রেডিও আপটেক ও স্ক্যান : নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্রগুলো এ পরীক্ষাটি করতে সহায়তা করে। হাইপারথায়রয়েডিজমে এটি একটি আদর্শ পরীক্ষা। ফাইন নিডেল এস্পিরেশন : কোন কোন সময় এ পরীক্ষাটি প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা হাইপোথায়রয়েডিজমের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে শিশুর বয়স, এ রোগের কারণ এবং বিদ্যমান চিকিৎসা প্রতুলতাকে বিবেচনায় এনে নিম্নলিখিত তিনটির যে কোনো একটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। * এন্টিথায়রয়েড ওষুধ। * রেডিওএবলাশন। * অপারেশন করে নডিউল দূর করা।

শিশুর হাইপোথায়রয়েডের উপসর্গ, কী করবেন?

0
নিউজ ডেস্ক: থায়রয়েডজনিত সমস্যা বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে। শিশু-কিশোরেরাও এই সমস্যায় ভুগতে পারে। সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যায়ও সুস্থ থাকা যায়। শিশু-কিশোররা থায়রয়েড হরমোনের ঘাটতি...
Advertisement
4,860FansLike
1,900SubscribersSubscribe
Advertisement

অর্থনীতি

২০২২-২৩ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে কি মধ্যবিত্তের জন্য কোনো সুখবর থাকছে? প্রশ্নটি করছি কারণ, প্রতিদিনই খবরের কাগজে দেখছি বাজেটে কী থাকবে, কী থাকবে না। সবশেষ দেখলাম, বিনা প্রশ্নে এবং কম ট্যাক্সে বিদেশ থেকে যত খুশি তত বিদেশি মুদ্রা আনা যাবে। কোন খাতে কত খরচ হবে তার হিসাবও দেখা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, করপোরেট কর আরও কমানো হবে; কারণ বড় বড় কোম্পানির মালিকরা কষ্টে আছেন। এখন প্রশ্ন, এসব খবরের ভিত্তি কী? হতে পারে গুজব, আবার হতে পারে এসব সরকারের কোনো অংশ প্রচার করছে আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য। তা হোক, কিন্তু মধ্যবিত্তের জন্য কোনো সুখবর পাচ্ছি না। বলা হতে পারে, প্রবাসী আয় উপার্জনকারীরা কি মধ্যবিত্ত নয়? হতে পারে, তবে বিদেশে অবস্থানকারী অনিবাসী নাগরিক। আমি বলছি রোদ-বৃষ্টি, ধুলাবালি, গরম সহ্য করে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সহ্য করে যারা দেশের ভেতরে আছে-সেই শ্রেণির মধ্যবিত্তের কথা। এরা সংখ্যায় নেহাত কম নয়। এটা বলছি গড়ের হিসাবে, কারণ দেশে ‘মধ্যবিত্ত’র সংজ্ঞা আছে কিনা, তা আমার জানা নেই। সাধারণভাবে তাদেরই মধ্যবিত্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়, যারা বাজারে যায়, হোটেল-মোটেলে যায়, পরিভ্রমণে যায়, শপিংমলে যায়, ফ্রিজ-এসি কেনে, মোটরসাইকেল কেনে, ফ্ল্যাটবাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে। তাদের কথাই আমি বলছি। অর্থমন্ত্রী কি তার আসন্ন বাজেটে অর্থনীতির প্রাণভোমরা এ মধ্যবিত্তের জন্য কিছু ঘোষণা নিয়ে আসবেন? আমি জানি না তিনি কী করবেন। তবে ‘মধ্যবিত্ত’ যে সরকারের আনুকূল্যের জন্য প্রতীক্ষা করছে, তা বলতেই পারি। ‘মধ্যবিত্ত’ দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, প্রবৃদ্ধির নির্ণায়ক শক্তি। তারা চায় উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক, প্রবৃদ্ধি হোক, অগ্রগতি হোক দুর্দমনীয়। কিন্তু এটা কি তার অস্তিত্বের বিনিময়ে, এটা কি সে কামনা করবে নিজে বিলীন হয়ে-এসব প্রশ্ন এখন ওঠে, প্রায়ই ওঠে। শুধু মধ্যবিত্ত নয়, অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মধ্যেও ‘উন্নয়ন’র সীমানা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আসলে ‘উন্নয়ন’র সীমা কোথায়, তা জানা নেই আমাদের। তবে কিছু উদাহরণ সামনে আছে, যারা উন্নয়নের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে যুদ্ধ-বিগ্রহে ব্যস্ত অথবা অন্যরা তা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নয়নের চূড়ান্ত সীমায় গত শতাব্দীতে আমরা দেখেছি গ্রেট ব্রিটেন বা বিলাতকে। যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে সেই দেশ এখন দুনিয়ার এক নম্বর অর্থনীতির চাটুকারে পরিণত হয়েছে। সেখানে মধ্যবিত্ত এখন একবেলা খাবার পরিহার করে বাঁচার চেষ্টা করছে। এই অতীতের শক্তি গ্রেট ব্রিটেন বাদে এখন ‘উন্নত দেশ’র সফল নজির হিসাবে আমাদের সামনে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীন। যুক্তরাষ্ট্র যে পথে উন্নয়ন করেছে, তার সম্পূর্ণ ভিন্ন পন্থায় উন্নতি করেছে জাপান। দুই ‘ধারণা’র দুই দেশ। মাঝখানে এখন পাচ্ছি চীনকে, যার উন্নয়ন অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই, একদলীয় শাসনের বেনামে এক ব্যক্তির শাসন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ইত্যাদি মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে উন্নয়নে লিপ্ত রয়েছে। এরা বাদে আছে জার্মানি, তারাও উন্নয়নে সফল। আরেকটি দেশ উন্নয়নের দৌড়ে এখনো ‘রানওয়েতে’-টেক-অফ করে করে ভাব। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক পন্থায় উন্নতির চরম শিখরে ওঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাকে অনুসরণ করে সব দেশ। শুধু অনুসরণ ও অনুকরণ নয়, সবারই চূড়ান্ত কাম্য-গন্তব্যস্থল হচ্ছে আমেরিকা। ভদ্রলোক, চোর-চোট্টা, গুন্ডা-বদমাইশ, অর্থ পাচারকারী, স্বৈরশাসক থেকে বিজ্ঞানী, নোবেল বিজয়ীদেরও গন্তব্যস্থান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ওয়ার্কম্যানরা প্যান্ট ফুটো করে পরে, আমাদের দেশে তা অনুকরণ করা হয়। এক সময়ের সফল দেশ ইংল্যান্ড বা গ্রেট ব্রিটেনের অনুকরণে বাণিজ্যিক জগতে আমরা পদবি ব্যবহার করতাম-অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, জেনারেল ম্যানেজার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এখন তা যুক্তরাষ্ট্রের অনুসরণে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিইও। হিসাবরক্ষণে আগে ছিল ‘দায়’ (লায়াবিলিটি) বাঁদিকে, সম্পদ (অ্যাসেট) ডানদিকে। এখন তা উপর-নিচে। এখন আমরা ‘ফ্লোর’র বদলে বলি ‘লেভেল’, ‘টয়লেট’র বদলে বলি ‘ওয়াশরুম’। বলাই বাহুল্য, মার্কিনিরা যা, আমরাও তা-ই হওয়ার চেষ্টা করছি। এটাই স্বাভাবিক-সবাইকেই সবাই অনুসরণ করতে চায়। দিলীপ কুমার, আমিতাভ বচ্চন, লতা মুঙ্গেশকর, শচীন টেন্ডুলকার ইদানীংকালে, কিছুদিন আগেও আমাদের বয়সের মানুষের কাছে উত্তম-সুচিত্রা ছিল অনুকরণীয়। সফল মানুষকে সবাই অনুসরণ করতে চায়। আমরাও তা-ই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আমাদের অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দেশ-চীন নয় এখনো। অনেক কোম্পানি দেখা যায় এখন চাকরির ক্ষেত্রেও মার্কিনিদের অনুসরণ করছে। চাকরি সব চুক্তিভিত্তিক। ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ প্রতিনিয়ত। এ যেন সুযোগ-সুবিধাহীন আরেক যুক্তরাষ্ট্র। এই যখন অবস্থা, তখন তো দেখতেই হয় সেই দেশের লোকেরা কেমন আছে! লোকেরা মানে বিল গেটস, সুন্দর পিচাইদের কথা বলছি না। বলছি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কথা, সাধারণ মার্কিন মধ্যবিত্তের কথা। ‘উন্নয়ন’, ‘উন্নতি’ ও ‘অগ্রগতি’র চূড়ান্ত পর্যায়ে মার্কিনিরা কেমন আছে? তাদের এ অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের কোনো শেখার আছে কিনা! শ্রীলংকার ব্যর্থতা থেকে যেমন শিখব, তেমনি দুনিয়ার সবচেয়ে সফল দেশটির কাছ থেকেও শিখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা নির্ভর করব বিশ্ববিখ্যাত ‘টাইম ম্যাগাজিন’র একটা প্রতিবেদনের ওপর। প্রতিবেদনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মধ্যবিত্ত’র ওপর। এর থেকে বোঝা যায় ওই দেশে মধ্যবিত্তের অবস্থা কী। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কী ধরনের ধারণা পোষণ করেন। বলা বাহুল্য, দুনিয়ার সবচেয়ে উন্নত দেশটির মধ্যবিত্তের অবস্থা যদি হতাশাজনক হয়, তাহলে আগামী দিনে ‘উন্নত বাংলাদেশ’র মধ্যবিত্তের অবস্থা কী হতে পারে! ‘টাইম ম্যাগাজিন’র প্রতিবেদনটির নাম ‘মধ্যবিত্ত, আশার আলোর কম’ (মিডল ক্লাস, লো হোপস)। এটি ছাপা হয়েছে মে মাসের ৫ তারিখে। নিবন্ধ/প্রতিবেদনটিতে অনেক জরিপ থেকে তথ্য জোগাড় করে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকের সঙ্গে তারা কথা বলেছে। উদাহরণ ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনটি শেষ করা হয়েছে একজন মার্কিন নাগরিকের একটি মন্তব্য দিয়ে, যা খুবই কটু। ওই নাগরিক বলেছেন, ‘আমি এই দেশকে ঘৃণা করি।’ কী মর্মস্পর্শী কটূক্তি! একটি দেশের একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক কী পর্যায়ে গেলে বলে সে তার দেশকে ঘৃণা করে! তাও কোন দেশের মানুষ? যে দেশটি দুনিয়ার মধ্যে ‘শ্রেষ্ঠ’। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, উন্নতি, প্রকৌশল, সুযোগ-সুবিধা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ইত্যাদি দৃষ্টিকোণ থেকে যে দেশ দুনিয়ার এক নম্বর রাষ্ট্র, যে দেশ সামরিক শক্তিতে এখনো এক নম্বর, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, যে দেশ বিদেশিদের সাদরে গ্রহণ করে, সেই দেশের মধ্যবিত্ত যদি আজ এ কথা বলে, তাহলে তা ভাববার বিষয় হয় তো বটেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত কারা? প্রতিবেদনটিতে মধ্যবিত্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এখন যেসব মার্কিনির বার্ষিক আয় ৪২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯০০ ডলার। বাংলাদেশের টাকায় (এক ডলার সমান ১০০ টাকা) এর পরিমাণ দাঁড়ায় বার্ষিক ৪২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার থেকে ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার উপর। মাথা গরম হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নয় কি? না, এভাবে হয় না। তারা ডলারে রোজগার করে, ডলারে খরচ করে। টাকায় রূপান্তর করে হিসাব করে না। এতে বোঝা যায় তারা কী ধরনের রোজগার মাসে করে। এত রোজগার করার পরও সেই মধ্যবিত্তের অনুভূতি কী? ‘টাইম ম্যাগাজিন’ সেই মধ্যবিত্তদের অনুভূতিকে কয়েকটি বাক্যে প্রকাশ করেছে। কোনো কোনো মধ্যবিত্ত বলেছে, ‘আমেরিকান স্বপ্ন একটি বিকট নিশাস্বপ্ন, এতে বুকে চাপাভাব আসে, বাকরুদ্ধ হয়’। কেউ বলেছেন, ‘সত্যি এটা হতাশাজনক, আমি আশা ছেড়ে দিচ্ছি। আমি জানি না আমি কী করব।’ আবার কেউ বলেছেন, ‘আমাদের যা করা দরকার তা করেছি-কিন্তু এখন আমরা ব্যয়ভারে ন্যুব্জ।’ আবার আরেকজন মধ্যবিত্ত বলেছেন, ‘আমি জীবনে বহু ডলার রোজগার করেছি, কিন্তু তবু আমি একটি বাড়ি কিনতে পারছি না।’ অপর মধ্যবিত্ত বলছেন, ‘এখানে আমাদের শিকড়; শিকড়চ্যুত হতে চাই না।’ এ কয়েকটি অনুভূতি থেকে কি বোঝা যাচ্ছে না আমেরিকার মধ্যবিত্তরা কেমন আছে! শ্রমজীবী মানুষের কথা আর বলার দরকার নেই। অথচ বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০১৯ সালে বলেছিলেন, ‘যখন মধ্যবিত্ত ভালো করে তখন সবাই ভালো করে, বেশি বেশি ভালো করে।’ আবার বিপরীতে যখন ধনীরা ভালো করে, বেশি বেশি ভালো করে, তখন গরিবদের একটু সুযোগ হয়, ভাবে হয়তো তাদেরও ভালো হতে পারে (অনিশ্চয়তার জীবন)। বাইডেনের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করা যাবে না। কিন্তু তার দেড় বছরের রাজত্বে কি মধ্যবিত্তের জীবনে কোনো স্বস্তি ফিরে এসেছে? নিশ্চয়ই না। সারা দুনিয়ার মানুষের চেয়ে মার্কিনিরা গড়ে আরও বেশি ভুগছে। বাইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে সারা দুনিয়াকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন। এই বিপদ যে কবে কাটবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ এই সুযোগে ধনীরা, অতি ধনীরা, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা মিলিয়ন মিলিয়ন, বিলিয়ন বিলিয়ন (শত কোটি) ডলার কামিয়ে নিচ্ছে। আর মার্কিন মধ্যবিত্তরা একটা বাড়ি/ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্নও দেখতে পাচ্ছে না। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরি করে, রোজগার করেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ফ্রিজ চলে না, এসি/হিটার চলে না। আমোদ-ফুর্তি বন্ধ। ছাত্রজীবনের ঋণ পরিশোধ, গাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ, বিভিন্ন ইউটিলিটির বিলের টাকা পরিশোধ করে তাদের বাড়ি কেনার কোনো টাকা আর থাকে না। ভাড়া বাড়িতে থাকে। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে সস্তা বাড়িতে যায়, মফস্বলে যায়। স্বামী-স্ত্রী দিন-রাত পরিশ্রম করে, সন্তানের পিতা-মাতা হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখতে পারে না। সন্তানের খরচ কে নির্বাহ করবে? যুবক-যুবতী বিয়ের স্বপ্নও দেখে না। অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তারা ‘লিভ টুগেদার’ করে। মাঝেমধ্যে তাদের সন্তান হয়-এদের বলা হয় ‘নিউ রিয়েলিটি চাইল্ড’। মূল্যস্ফীতি তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। গত এক বছরে তাদের বাড়ির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ, অন্যান্য দ্রব্যের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে ঘণ্টায় শ্রমের দাম কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, আজকের মধ্যবিত্তদের মা-বাবারা অনেক ভালো ছিলেন। তারা তাদের আয় দিয়ে বাড়ি করেছেন একটি-দুটি, বিয়েশাদি করেছেন, সন্তানের মাতা-পিতা হয়েছেন। যতই দিন যাচ্ছে, ততই তিনটি জিনিস যুক্তরাষ্ট্রে দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে : আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষা। এক দুঃস্বপ্নের জীবন, হতাশার জীবন, অন্ধকারময় জীবন, বাকরুদ্ধ জীবন। আগে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন মজুরি নির্ধারণে চাপ তৈরি করতে পারত। আজ তা নেই। ‘রোবট’ জায়গা দখল করছে। বিপরীতে ‘বিলিয়ন’র মালিকরা ‘ট্রিলিয়ন’র মালিক হচ্ছেন। পরিশেষে বলা দরকার-বাংলাদেশের মধ্যবিত্তরা কি ভালো আছেন? আগামী দিনে উন্নতির পর উন্নতি হলেও কি তারা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন? নাকি তারাও মার্কিন মধ্যবিত্তের মতো একটা ‘মার্জিনালাইজ্ড কম্যুনিটিতে’ পরিণত হবে? হতাশায়, আশঙ্কায় ভুগবে মধ্যবিত্ত? অথচ মধ্যবিত্ত, নিুবিত্ত, উদীয়মান মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষই ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। অর্থমন্ত্রী শুনেছি গরিবের ছেলে ছিলেন। তিনি কি তাদের কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছেন? ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য কোনো সুখবর থাকবে না?

0
নিউজ ডেস্ক: ২০২২-২৩ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে কি মধ্যবিত্তের জন্য কোনো সুখবর থাকছে? প্রশ্নটি করছি কারণ, প্রতিদিনই খবরের কাগজে দেখছি বাজেটে কী থাকবে, কী থাকবে না। সবশেষ...
Advertisement

টুকরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ